ইরানের বিরুদ্ধে হামলা ১৩ দিনে গড়ালো, নিহত ১,৭০০ ছাড়ালো
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলা বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) পর্যন্ত ১৩ দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে। এই হামলার ফলে ইরানে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা একটি ভয়াবহ মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেই সঙ্গে আহত হয়েছে হাজারেরও বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
যুদ্ধ বন্ধের কোনো লক্ষণ নেই, ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি
এই সংঘাতের মধ্যে এখন পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একটি বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, "আমাদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক ভালো খবর আছে। এটি স্পষ্ট করে বললে, ইরান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দেশটি নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে।"
ট্রাম্প ইরান প্রায় খাদের কিনারায় চলে এসেছে উল্লেখ করে জানান, এর মানে এই নয় যে, আমরা এখনই যুদ্ধ শেষ করছি। তবে তারা শেষ হয়ে গেছে। তিনি আরও দাবি করেছেন যে ইরানের কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমানবাহিনী নেই, এবং তাদের কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অবশিষ্ট নেই।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমুদ্র প্রণালির দিকে এখন কড়া নজর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন, এবং প্রণালিগুলোর অবস্থা এখন বেশ ভালো বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, "মূল বিষয় হলো আমাদের জিততে হবে। দ্রুত জিততে হবে, কিন্তু জয়টা নিশ্চিত করতে হবে। অধিকাংশ মানুষ বলছে, আমরা ইতোমধ্যে জিতে গেছি। এখন প্রশ্ন হলো—কখন, কখন আমরা থামব? আমরা চাই না এই শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠুক।"
এ ছাড়া, ট্রাম্প ইরানের প্রতি ফের হুঁশিয়ার বার্তা উচ্চারণ করে বলেছেন, তেহরানের বিভিন্ন অংশ বা অন্যান্য জায়গায় তারা আঘাত করতে পারলেও, তেমনটা করলে ইরানের পক্ষে দেশটি পুনর্গঠন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তছনছ করে দিতে পারার দাবি করেছেন, তবে জানিয়েছেন যে তারা তেমন কিছু করতে যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়ছে, এবং যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে আলোচনা চলছে। ইরানের জনগণের ওপর এই হামলার প্রভাব আরও গভীর হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।



