মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: সৌদি, বাহরাইন, কাতার ও কুয়েত লক্ষ্য
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের উত্তাপ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এবার ইরান একযোগে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার এবং কুয়েতের উপর। বিশেষ করে এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে।
সৌদি আরবে প্রতিহত হামলা
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে তাদের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান তিনটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে। তবে সৌদি আরবের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই তিনটি মিসাইলই সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা শক্তির দক্ষতা প্রমাণ করে। এই ঘটনায় কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, কিন্তু উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাহরাইন ও কাতারে সতর্কতা
হামলার মুখে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জরুরি নির্দেশ দিয়েছে। ওই সময় দেশটির রাজধানীজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছিল বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশ কাতারেও ইরান ৯টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং বেশ কিছু ড্রোন ছুড়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতিতে জানান, ৯টি মিসাইলের মধ্যে ৮টি আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং একটি জনশূন্য স্থানে পড়েছে, ফলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কুয়েতে চলমান প্রতিরক্ষা কার্যক্রম
কুয়েতের সেনাবাহিনী স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া মিসাইল ও ড্রোন প্রতিহত করার কাজ অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে কঠোরভাবে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করেছে, কারণ উত্তেজনার এই পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
গুরুত্বপূর্ণভাবে, কুয়েতে যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের ব্যাপক হামলায় একটি ঘাঁটিতে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যা এই সংঘাতের ভয়াবহতা তুলে ধরে। কুয়েত সেনাবাহিনী আরও উল্লেখ করেছে, আকাশে মিসাইল বা ড্রোন ধ্বংসের কারণে সৃষ্ট বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ এটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ।
চরম উত্তেজনা ও সর্বোচ্চ সতর্কতা
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ইরানের এই ব্যাপক হামলা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে যাতে করে উত্তেজনা আরও না বাড়ে।
