হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ইরানের অনুমতি বাধ্যতামূলক, তিন জাহাজে হামলা
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অনুমতি বাধ্যতামূলক, জাহাজে হামলা

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ইরানের কঠোর শর্ত, হামলায় উত্তেজনা

ইরান ঘোষণা করেছে যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচলের জন্য আগে থেকে অনুমতি নিতে হবে। বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) ইরানের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। একটি বিবৃতিতে সেন্ট্রাল কমান্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল বা তাদের মিত্রদের মালিকানাধীন জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করলে তা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

ইরানের হুঁশিয়ারি: 'এক ফোঁটা তেলও পার হতে দেব না'

বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে 'এক ফোঁটা তেলও' পার হতে দেবে না। এই ঘোষণার মধ্যেই বুধবার হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি কার্গো জাহাজে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত করে আগুন লাগিয়ে দেয়, যা ওমানের উত্তরে অবস্থান করছিল।

যুক্তরাজ্যের সমুদ্র নিরাপত্তা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই হামলায় জাহাজটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলের কাছে একটি বাল্ক ক্যারিয়ার ও একটি কনটেইনার জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে। থাইল্যান্ডের নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, 'ময়ুরি নামে' নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়।

উদ্ধার অভিযান ও আটকা জাহাজ

ওমানের নৌবাহিনী 'ময়ুরি নামে' জাহাজের ২৩ নাবিকের মধ্যে ২০ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, বাকি তিনজনের উদ্ধার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালীতে বর্তমানে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী ও লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী—মোট দুটি জাহাজ আটকা পড়ে আছে।

আইআরজিসির দাবি, থামার সতর্কতা উপেক্ষা করায় থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী 'এক্সপ্রেস রোম' নামের জাহাজটি ইসরাইলের মালিকানাধীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী ঘটনা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এর আগে মঙ্গলবার পেন্টাগন জানিয়েছিল যে মার্কিন বাহিনী ইরানের ১৬টি মাইন পাতা জাহাজ ধ্বংস করেছে। তবে বুধবারও হরমুজ প্রণালিতে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সুফান সেন্টারের মতে, ইরানের কাছে ২ হাজার থেকে ৬ হাজার পর্যন্ত নৌ-মাইন থাকতে পারে, যা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচিত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন সংকট তৈরি করেছে, বিশেষ করে তেল পরিবহনের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীটি নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইরানের এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা চিন্তাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।