ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা কমাতে এক পৃষ্ঠার ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার পথে। মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এই সমঝোতা স্বাক্ষরিত হতে পারে।
সমঝোতা স্মারকের মূল দফাগুলো
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই স্মারকটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করবে এবং একটি বিস্তারিত চুক্তির জন্য ৩০ দিনের আলোচনার সূচনা করবে। ওই চুক্তির লক্ষ্য হবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।
হরমুজ প্রণালি ও নৌ অবরোধ
অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, ৩০ দিনের সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হবে।
পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা
সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং আটকে থাকা কয়েক শ কোটি ডলার অর্থ ছাড় দেবে।
মার্কিন অবস্থান ও হুঁশিয়ারি
এক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, যদি আলোচনা ভেঙে যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার অবরোধ জোরদার বা সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে পারবে। ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। এর আগে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, 'আমরা পারস্পরিকভাবে একমত হয়েছি অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকলেও, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে—যাতে দেখা যায় চুক্তিটি চূড়ান্ত করে স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না।'
ইরানের প্রতিক্রিয়া
তবে চীন সফরকালে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে কিছু না বললেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, তেহরান 'ন্যায্য ও সমন্বিত একটি চুক্তি' প্রত্যাশা করছে। তবে নতুন এই খসড়া যুদ্ধ বন্ধের পথ প্রশমিত করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান বলছে, তারা নিজেদের জাতীয় স্বার্থ মাথায় রেখেই সমঝোতা করবে। বুধবার (৬ মে) সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, খুব শিগগিরই সমঝোতা স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে। সেটি চূড়ান্ত পর্যায়ের খুব কাছাকাছি। রয়টার্সও একই খবর দিয়েছে।



