কাতারের এলএনজি কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ১৩, আহত ৫০
কাতারের এলএনজি কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ১৩, আহত ৫০

কাতারের প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি প্রক্রিয়াকরণ কারখানা রাস লাফফান কমপ্লেক্সে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনায় আরও ৫০ জনের বেশি কর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার কারণ ও তদন্ত

সোমবার (২২ জুন) কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল কাবি দাপ্তরিকভাবে জানান যে একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। তিনি নাশকতা, বাইরের দেশের আক্রমণ বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন। মন্ত্রী বলেন, 'এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল, কোনো নাশকতা বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড নয়।'

জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটিতে উৎপাদন বন্ধ ছিল। মাত্র দুই দিন আগে এটি পুনরায় চালু করা হয়। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হতাহত ও নিরাপত্তা

মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে নিহত সব শ্রমিকই ভারত ও পাকিস্তানের প্রবাসী নাগরিক। আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কারখানায় কোনো বিষাক্ত গ্যাস লিকেজ হয়নি যা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব

সাদ আল কাবি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে আশ্বস্ত করে বলেন, এই দুর্ঘটনার কারণে বিশ্ববাজারে কাতারের এলএনজি রপ্তানি কার্যক্রমে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি কারখানাটি পরিচালনা করে। বিস্ফোরণে আর্থিক ও পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রেক্ষাপট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর সামরিক হামলা শুরু করলে তেহরান পাল্টা জবাবে ইসরায়েল ও পারস্য উপসাগরীয় দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইরানের পাল্টা হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল কাতার। গত মার্চে ইরানি আক্রমণের মুখে সুরক্ষার জন্য রাস লাফফান কমপ্লেক্স সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালুর সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে।