কলোম্বিয়ার কুখ্যাত মাদক সম্রাট পাবলো এসকোবার ১৯৯৩ সালে নিহত হওয়ার পর তার ব্যক্তিগত খামারবাড়ি হ্যাসিয়েন্দা নাপোলেস-এ থাকা লামা, চিতাবাঘ, সিংহ, বাঘ ও উটপাখিসহ বেশিরভাগ বিদেশি প্রাণী চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়। তবে বিপজ্জনক এবং স্থানান্তর করা কঠিন ভেবে চারটি জলহস্তী সেখানে ফেলে রাখা হয়েছিল।
গত চার দশকে সেই চারটি জলহস্তী নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে অবাধে বংশবৃদ্ধি করেছে। এসকোবারের সেই মূল দলটির বংশধর হিসেবে কলোম্বিয়ায় এখন প্রায় ২০০টি জলহস্তী ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা ‘কোকেন হিপো’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
পরিবেশগত সংকট
১৯৮০-এর দশকে এসকোবারের বিপুল সম্পদ আর ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে আনা এই জলহস্তীগুলোই এখন কলোম্বিয়ার জন্য এক বিরাট পরিবেশগত সংকট তৈরি করেছে। বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্টিফিক আমেরিকান-এ হুম্বার্তো বাসিলিও লিখেছেন, এই প্রাণীদের বিশাল আকৃতি নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে দিচ্ছে এবং তাদের বর্জ্য পানিকে দূষিত করছে, যার ফলে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে পুষ্টির আধিক্য ঘটছে। এতে মাছ ও জলজ উদ্ভিদ মারা যাচ্ছে এবং নদীর ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই জলহস্তীগুলো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে এবং মানুষ ও নৌকার ওপর আক্রমণও করেছে।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ
নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই জলহস্তীর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে জলহস্তীগুলোকে বন্ধ্যাকরণ বা অপারেশনের চেষ্টা করা হলেও তাদের বিশাল আকার, আক্রমণাত্মক আচরণ এবং উচ্চ ব্যয়ের কারণে তা খুব একটা সফল হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে পরিবেশগত ক্ষতি কমাতে এবং সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আনুমানিক ১৬৯টিরও বেশি জলহস্তীর মধ্য থেকে অন্তত ৮০টিকে সুঁই ফুটিয়ে মেরে ফেলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে কলোম্বিয়া সরকার।



