পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে বিরল প্রজাতির একটি জীবিত অলিভ রিডলি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সৈকতের পর্যটন পার্কসংলগ্ন এলাকা থেকে কচ্ছপটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, শনিবার সকালে কুয়াকাটা সৈকতে আলোকচিত্রী মো. সাইফুল ইসলাম প্রথমে কচ্ছপটি দেখতে পান। পরে তিনি সৈকত এলাকায় পরিবেশ-প্রতিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনকে বিষয়টি জানালে সংগঠনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অসুস্থ অবস্থায় কচ্ছপটি উদ্ধার করেন।
কচ্ছপের প্রজাতি ও বৈশিষ্ট্য
উদ্ধার হওয়া কচ্ছপটি অলিভ রিডলি সামুদ্রিক কচ্ছপ প্রজাতির বলে নিশ্চিত করেছেন পরিবেশকর্মীরা। তাঁরা জানান, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কেজি ওজনের কচ্ছপটি সাধারণত ‘প্যাসিফিক রিডলি’ নামেও পরিচিত। এটি পৃথিবীর উষ্ণ ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সমুদ্র অঞ্চলে বিচরণ করে। প্রধানত ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে এদের বেশি দেখা গেলেও আটলান্টিক মহাসাগরেও এদের বিচরণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ প্রতিষ্ঠান আইইউসিএন কচ্ছপের এ প্রজাতিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এ ধরনের প্রাণী সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।
পরিবেশকর্মীদের মতামত
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, এটি একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী অলিভ রিডলি কচ্ছপ। সাধারণত এ সময় স্ত্রী কচ্ছপগুলো ডিম পাড়ার জন্য উপকূলের নিরিবিলি সৈকতে চলে আসে। হয়তো ডিম দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এটি কুয়াকাটা উপকূলে চলে এসেছে। তবে কচ্ছপটিকে বেশ দুর্বল ও ক্লান্ত বলে মনে হয়েছে। সমুদ্রে মাছ ধরার জালে আটকে গিয়ে কচ্ছপটি আঘাত পেয়ে থাকতে পারে, কিংবা প্লাস্টিক বর্জ্য খাওয়ার কারণেও এমন পরিস্থিতি হতে পারে। আমরা কচ্ছপটি উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রেখেছি এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, সমুদ্রে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য, জলদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবাধ মাছ শিকারের কারণে সামুদ্রিক কচ্ছপের আবাস ও প্রজনন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ডিম দেওয়ার মৌসুমে উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ পরিবেশ না থাকায় অনেক কচ্ছপ বিপদে পড়ে।
বন বিভাগের বক্তব্য
কুয়াকাটা বন বিভাগের ক্যাম্প কর্মকর্তা মো. রুবেল মিয়া বলেন, ‘অলিভ রিডলি প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ আমাদের উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের খুব একটা দেখা যায় না। দ্রুত তথ্য পাওয়ায় কচ্ছপটিকে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে আমরা কচ্ছপটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে। সুস্থ হওয়ার পর নিরাপদ পরিবেশে সমুদ্রে অবমুক্ত করা হবে।’



