এআই ডেটা সেন্টারে পানির চাহিদা ১৩০ কোটি মানুষের সমান
এআই ডেটা সেন্টারে পানির চাহিদা ১৩০ কোটি মানুষের সমান

প্রযুক্তি-দুনিয়ায় একটি প্রচলিত ধারণা আছে, প্রযুক্তি যত উন্নত, গতিশীল ও ছোট হবে, তার পেছনে সম্পদের খরচও তত কমবে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ক্ষেত্রে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হতে চলেছে। এআই প্রযুক্তির পেছনে কাজ করা ডেটা সেন্টারের সার্ভারসহ বিশাল অবকাঠামো বাস্তবে পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদ নিঃশেষ করে দিচ্ছে।

জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

জাতিসংঘের আওতাধীন ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এআই ডেটা সেন্টারের কারণে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ, পানি ও ভূমির চাহিদা আশঙ্কাজনক হারে বাড়বে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ডেটা সেন্টারের সার্ভারগুলো যখন দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করে, তখন প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। এই তাপ কমাতে ব্যবহৃত কুলিং সিস্টেম পরিচালনায় লাখ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়।

পানির চাহিদা

এআইয়ের বর্তমান বৃদ্ধির ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে এর অবকাঠামো ঠান্ডা রাখতে যে পরিমাণ পানির প্রয়োজন হবে, তা বিশ্বের প্রায় ১৩০ কোটি মানুষের মৌলিক পানির চাহিদার সমান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিদ্যুৎ ব্যবহারের দিক

বিদ্যুৎ ব্যবহারের দিক থেকেও এআই ডেটা সেন্টারগুলো এখন এক একটি দানবে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এআই ডেটা সেন্টারগুলো সম্মিলিতভাবে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, তা একটি মাঝারি আকারের দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমান। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো এটি কোনো নির্দিষ্ট স্তরে এসে থমকে নেই। শত শত কোটি ব্যবহারকারী যখন প্রতিনিয়ত এআইকে বিভিন্ন প্রশ্ন করার পাশাপাশি কৃত্রিম ছবি তৈরি করেন, তখন এই বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকে। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ দখল করে নেবে এই এআই খাত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভৌগোলিক কেন্দ্রীকরণ

প্রতিবেদনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, তা হলো এই অবকাঠামোর ভৌগোলিক কেন্দ্রীকরণ। পুরো বিশ্বের এআই ডেটা সেন্টারগুলোর সিংহভাগেরই অবস্থান মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে। ফলে এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে যে পরিবেশগত বিপর্যয় হয়, তা সরাসরি ভোগ করতে হচ্ছে এই নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষকে। অন্যদিকে, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো মূলত এই সুবিধার কেবল ভোক্তা হিসেবেই রয়ে গেছে। পরিচ্ছন্ন বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ছাড়া যদি এভাবে এআই ডেটা সেন্টারের সংখ্যা বাড়তে থাকে, তবে তা বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের মাত্রাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি