জাতিসংঘে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউএনসিটিএডি মহাসচিবের বৈঠক: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সোমবার (১৬ মার্চ) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ইউএনসিটিএডির মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান। এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি
বৈঠকে উভয় নেতা পর্যবেক্ষণ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। তারা উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে, বিশেষ করে তাদের মধ্যে দরিদ্রতম দেশগুলোকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। এই দেশগুলো বছরের পর বছর ধরে অগ্রগতির বিপরীত পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করছে, যা তাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান
এসময় তারা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা আরও না বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়বে। এই আলোচনায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা বৈঠকের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
নেতাদের প্রার্থিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
উল্লেখ্য, কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান বর্তমানে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদের প্রার্থী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতির পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বৈঠকে দুই নেতা নিজ নিজ প্রার্থিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেয়।
এই বৈঠকটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির প্রতিশ্রুতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
