গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় ১৩ ফিলিস্তিনি নিহত, নিহতদের মধ্যে ৯ পুলিশ ও শিশু-গর্ভবতী নারী
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দু’জন শিশু, একজন গর্ভবতী নারী এবং ৯ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই হামলায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন, যা আল-আকসা হাসপাতালের তথ্য দ্বারা নিশ্চিত হয়েছে।
নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে হামলা
রোববার (১৫ মার্চ) মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের একটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়। আল-আকসা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, এতে চারজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ত্রিশের কোঠার এক দম্পতি এবং তাদের ১০ বছরের ছেলে রয়েছে। হাসপাতাল জানায়, নিহত নারীটির গর্ভে যমজ সন্তান ছিল। চতুর্থ নিহত ব্যক্তি হলো পাশের বাড়ির ১৫ বছর বয়সি এক কিশোর।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদ আল-মুহতাসেব বলেন, ‘আমরা ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ঘুম ভেঙে যাই। আঘাতটি খুবই শক্তিশালী ছিল। আগে থেকে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।’
পুলিশ গাড়িতে হামলা
আরেকটি হামলা চালানো হয় দক্ষিণ-উত্তর ফিলাডেলফি করিডরের কাছে মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা শহরের প্রবেশমুখে একটি পুলিশ গাড়ির ওপর বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই হামলায় ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন, যাদের মধ্যে মধ্য গাজার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা কর্নেল ইয়াদ আব ইউসুফও ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আজ বিকেলে একটি পুলিশ গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েদখলদার ইসরাইলি বাহিনী যে জঘন্য অপরাধ করেছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। নিহত পুলিশ সদস্যরা পবিত্র রমজান মাসে বাজার তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করছিলেন।’
হামলার পরিণতি ও প্রতিক্রিয়া
আল-আকসা হাসপাতাল নিহতদের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে যে এ হামলায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। এই দুই হামলার বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে, যেখানে নিহত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সময় আক্রমণের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনা গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
