সানরাইজার্সের পাকিস্তানি ক্রিকেটার নিয়োগে ভারতীয় হত্যায় অবদানের অভিযোগ গাভাস্কারের
সানরাইজার্সের পাকিস্তানি ক্রিকেটার নিয়োগে গাভাস্কারের অভিযোগ

সানরাইজার্সের পাকিস্তানি ক্রিকেটার নিয়োগে ভারতীয় হত্যায় অবদানের অভিযোগ গাভাস্কারের

ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স লিডসের পাকিস্তানি স্পিনার আবরার আহমেদকে দলে ভেড়ানোর সিদ্ধান্তটি ভারতীয় সমাজে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার এই নিয়োগকে ‘পরোক্ষভাবে ভারতীয় সেনা ও বেসামরিক মানুষের মৃত্যুতে অবদান রাখা’ বলে অভিহিত করেছেন, যা ক্রিকেট বিশ্বে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

গাভাস্কারের কলামে তীব্র সমালোচনা

ভারতীয় সংবাদপত্র মিড-ডেতে প্রকাশিত সাপ্তাহিক কলামে ৭৬ বছর বয়সী সাবেক ভারত অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার তার বক্তব্য বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে যে বেতন দেওয়া হয়, সেই খেলোয়াড় তার সরকারকে আয়কর দেন। সেই সরকার সেই অর্থ দিয়ে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কেনে। এটি পরোক্ষভাবে ভারতীয় সেনা ও বেসামরিক মানুষের মৃত্যুতে অবদান রাখে।’

গাভাস্কার আরও উল্লেখ করেছেন যে, ‘ভারতীয় হোক বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান — মালিক যদি ভারতীয় হন, তাহলে তিনি ভারতীয় হত্যায় অবদান রাখছেন।’ এই মন্তব্য সরাসরি সানরাইজার্স কর্তৃপক্ষকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে, যা ক্রিকেট প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্কের পটভূমি

২০০৯ সালের পর থেকে পাকিস্তানের কোনো খেলোয়াড় ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগে অংশগ্রহণ করতে পারেননি, যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক উত্তেজনার ফলাফল। গত বছরের মে মাসে দুই দেশের মধ্যে মারাত্মক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে, এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে সানরাইজার্সের সিদ্ধান্ত আরও বেশি বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।

দ্য হান্ড্রেড নিলাম ও প্রতিক্রিয়া

হান্ড্রেড টুর্নামেন্টের নিলামের আগে ধারণা ছিল যে আইপিএলের সঙ্গে যুক্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের কেনার ক্ষেত্রে ‘শ্যাডো ব্যান’ আরোপ করবে। কিন্তু সানরাইজার্স লিডস ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে আবরার আহমেদকে কিনে নেওয়ায় এই ধারণা ভেঙে যায়। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় সামাজিক মাধ্যমে দলটির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে, যা ক্রিকেট সম্প্রদায়কে বিভক্ত করেছে।

অন্যান্য হান্ড্রেড ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে এমআই লন্ডন, ম্যানচেস্টার সুপার জায়েন্টস ও সাদার্ন ব্রেভের আংশিক মালিকানা আইপিএল দলের সঙ্গে যুক্ত। নিলামে কেনা অন্য পাকিস্তানি খেলোয়াড় উসমান তারিককে আমেরিকান মালিকানার বার্মিংহাম ফিনিক্স কিনেছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মালিকানার জটিলতা তুলে ধরছে।

ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান ও গাভাস্কারের শেষ আবেদন

ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড গত মাসে একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছিল যে, সব দল শুধুমাত্র পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে খেলোয়াড় বাছাই করবে, যা রাজনৈতিক বিবেচনাকে উপেক্ষা করার ইঙ্গিত দেয়। তবে গাভাস্কার তার কলামের শেষে বলেছেন, ‘এখনো এই ভুল শোধরানোর সময় আছে। আশা করি বিচক্ষণ মস্তিষ্কগুলো এগিয়ে আসবে।’ এই মন্তব্য ক্রিকেট প্রশাসন ও দলগুলোর নীতিনির্ধারণে নৈতিক দায়িত্বের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা ক্রিকেটের বাণিজ্যিকীকরণ ও রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে ফুটিয়ে তুলছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক খেলাধুলায় নীতিগত পরিবর্তনের দাবি জানাতে পারে।