ভাই সেজে বিয়েতে এসেছিলেন যে ব্যক্তি, তিনিই কনের আসল স্বামী!
ভাই সেজে বিয়েতে এসেছিলেন তিনিই কনের আসল স্বামী!

বিয়ের পিঁড়িতে বসা কনের যিনি ‘ভাই’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পরে দেখা গেলো তিনিই কনের আসল স্বামী! ভারতের মধ্য প্রদেশের গোয়ালিয়রে এমনই এক অদ্ভুত ও চোখ কপালে তোলার মতো বিয়ের প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। এই ঘটনায় প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে কনে ও তার প্রথম স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ

গোয়ালিয়রের নাকা চন্দ্রবদন এলাকার বাসিন্দা রতন শর্মা জবলপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে টিম লিডার হিসেবে কাজ করেন। রতনদের পাঁচ ভাইয়ের কেউই বিবাহিত না হওয়ায় তার পরিবার উপযুক্ত পাত্রী খুঁজছিল। রতনের পরিবারের অভিযোগ, তাদের প্রতিবেশী সোনু তিওয়ারি মোরেনার অজয় চৌহান ওরফে সোনু নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন। অজয় দাবি করেন, তিনি তার এক দরিদ্র পালিত বোন দীক্ষা মুদগালের (রাধা) জন্য পাত্র খুঁজছেন। মেয়েটিকে দেখার পর রতনের পরিবার বিয়েতে রাজি হয়।

গত ২৭ এপ্রিল বিয়ের প্রথম দিকের কিছু আনুষ্ঠানিকতায় অজয় চৌহান ‘ভাই’ হিসেবে অংশ নেন। এরপর গত ৭ মে হিন্দু রীতি অনুযায়ী ধুমধাম করে রতন ও দীক্ষার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়েতে কনের ‘মা’ পরিচয় দিয়ে মায়া দেবী নামের এক নারী ‘কন্যাদান’ করেন। এ ছাড়া শিল্পি পারমার, রাঘবেন্দ্র পারমার ও সত্যেন্দ্র চৌহান কনের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিয়েতে হাজির ছিলেন। রতনের পরিবার এই বিয়েতে প্রায় ৭ লাখ রুপি খরচ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রহস্য উদঘাটন

বিয়ের পর কনে যখন স্বামীর ঘরে আসেন, তখন সারাক্ষণ মোবাইল ফোনে চ্যাটিং করা নিয়ে পরিবারের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। এক রাতে রতন তার স্ত্রীর ফোন চেক করতেই বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের সূত্র ধরে রতন জানতে পারেন, বিয়েতে যিনি দীক্ষার ‘ভাই’ সেজে এসেছিলেন, সেই অজয় চৌহান আসলে দীক্ষার আসল স্বামী! ২০২৪ সালে আগ্রার একটি আর্য সমাজ মন্দিরে দীক্ষা ও অজয় চৌহানের বিয়ে হয়েছিল এবং তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই বসবাস করছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতারণার উদ্দেশ্য ও আইনি ব্যবস্থা

রতন শর্মার অভিযোগ, কয়েক লাখ রুপি, নগদ টাকা ও গহনা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই চক্রটি পরিকল্পিতভাবে এই ভুয়া বিয়ের ফাঁদ পেতেছিল। প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রতনের পরিবার কনেকে সরাসরি থানায় নিয়ে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ এই ঘটনায় দীক্ষা, অজয় চৌহান, মায়া দেবী, শিল্পি পারমার, রাঘবেন্দ্র পারমার, সত্যেন্দ্র চৌহান ও প্রতিবেশী সোনু তিওয়ারির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পুলিশ অভিযুক্ত কনেকে ওয়ান-স্টপ সেন্টারে পাঠিয়েছে এবং তার আসল স্বামী অজয় চৌহানকে হেফাজতে নিয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে