ইরানের নতুন শক্তিমান জেনারেল আহমাদ ভাহিদি: কে এই কট্টর নেতা?
ইরানের নতুন শক্তিমান জেনারেল আহমাদ ভাহিদি: কে এই কট্টর নেতা?

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ভাহিদি। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকা এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত এই জেনারেল বর্তমানে তেহরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব রাখছেন। শনিবার (২৩ মে) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ভাহিদির উত্থান ও প্রভাব

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) তৎকালীন প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হওয়ার পর আইআরজিসির নেতৃত্বে আসেন ভাহিদি। তার উত্থান ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভাহিদিকে অনেকেই পাকপুরের চেয়েও বেশি কট্টরপন্থী বলে মনে করেন। আর্জেন্টিনায় ১৯৯৪ সালের ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইন্টারপোল তাকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছে। এ ছাড়া ইরানের বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান বিশেষজ্ঞ আলী ভায়েজ বলেন, ভাহিদি অবশ্যই প্রভাবশালী, কিন্তু তিনি একা সিদ্ধান্ত নেন না। তবে তার মতামতের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। ইসরায়েলের সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিট্রিনোভিচ সিএনএনকে বলেছেন, ভাহিদি অত্যন্ত কট্টর এবং ইসলামি বিপ্লবের আদর্শের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ। তাকে পাশ কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে কোনো বোঝাপড়ায় যাওয়া প্রায় অসম্ভব।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হরমুজ প্রণালি ও কঠোর অবস্থান

বর্তমানে ইরানের হরমুজ প্রণালি কার্যত নিয়ন্ত্রণে রেখেছে আইআরজিসি। ভাহিদির নেতৃত্বে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আগের চেয়ে আরও শক্ত অবস্থান নিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সম্প্রতি ভাহিদি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ভূখণ্ডে আর কোনো হামলা হলে এ যুদ্ধ আর সীমিত থাকবে না। আগুন সব সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়বে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, তোমরা ধ্বংসাত্মক আঘাতের মুখোমুখি হবে।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, তিনি আলোচনার জন্য অপেক্ষা করতে রাজি, তবে সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— হয় চুক্তি, নয়তো কঠোর পদক্ষেপ।

পর্দার আড়ালের শক্তি

ভাহিদি সাধারণত জনসমক্ষে খুব কম আসেন। তবে তার পর্দার আড়ালের প্রভাব যথেষ্ট শক্তিশালী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের বর্তমান অবস্থানে মধ্যপন্থী কোনো গোষ্ঠী উঠে আসতে পারেনি বলেই তার মতো কট্টর নেতৃত্বের উত্থান সম্ভব হয়েছে। ১৯৫৮ সালে শিরাজে জন্ম নেওয়া ভাহিদি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় থেকেই আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তিনি কুদস ফোর্সের প্রথম কমান্ডার ছিলেন এবং পরবর্তীকালে প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকটে ভাহিদির মতো একজন পরোয়ানাভুক্ত জেনারেলের এতটা প্রভাব ইরানের কঠোর অবস্থানকেই প্রতিফলিত করছে।