চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ধসে অন্তত ২৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের অপ্রস্তুতির চিত্র স্পষ্ট করে দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আগেই সতর্ক করলেও তা আমলে না নেওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
রেকর্ড বৃষ্টি ও বিপর্যয়
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়, যা ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। টানা পাঁচ দিনের এই ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে, সড়ক ও রেলপথ পানির নিচে তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং শাহ আমানত বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে ব্যাঘাত ঘটেছে।
পাহাড়ধসে প্রাণহানি
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো পাহাড়ধসে প্রাণহানি। গত চার দিনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে পৃথক তিনটি ঘটনায় শিশুসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রামে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই শিশু মারা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বান্দরবানের লামায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
অতীতের সুপারিশ অগ্রাহ্য
২০০৭ ও ২০১৭ সালে পাহাড়ধসে বড় বিপর্যয়ের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির প্রতিবেদনে পাহাড় কাটা বন্ধ, পুনর্বনায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসতি সরানো, ঝুঁকি মানচিত্র তৈরি, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং সমন্বিত পাহাড় ব্যবস্থাপনার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ এখনো চরম ঝুঁকিতে বসবাস করছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয়
আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে, আরও দু-তিন দিন ভারী বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, প্রশাসন আগেভাগে ব্যবস্থা নিলে ও সক্রিয় হলে পাহাড়ধসে প্রাণহানি কমানো সম্ভব। তাই আরও বড় বিপর্যয়ের আগে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের বসতিগুলো থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া জরুরি।



