কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে আড়াই বছরের শিশু মোহাম্মদ ওয়াকিমের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওয়াকিম সোলতান আহমদ ও পারভিন আকতার দম্পতির সন্তান। বিকেলে ওয়াকিমের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় লোকজন জানান, গত তিন দিনের টানা ভারী বর্ষণে চকরিয়া উপজেলার কাকারাসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পেয়ে আজ ভোর থেকে মানুষের বসতঘরে পানি ঢুকতে শুরু করে। সোলতান আহমদের বাড়িতেও বন্যার পানি ঢুকলে পরিবারের সদস্যরা খাটের ওপর অবস্থান নেন।
সোলতান আহমদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে সবাই খাটের ওপর ভাত খাই। ওয়াকিমকেও তার মা ভাত খাওয়ান। এরপর খাটের ওপর আমরা সবাই থাকলেও ওয়াকিম কখন খাট থেকে পানিতে পড়ে যায় আমরা টের পাইনি। যখন তার খোঁজ নিই, তখন তার লাশ পানিতে ভাসছে।’
প্লাবিত এলাকার চিত্র
পাঁচ দিনের টানা ভারী বর্ষণে চকরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কাকারা ইউনিয়নে ঢলের পানিতে শিশুর মৃত্যুর ঘটনার আগে গতকাল বুধবার দিবাগত রাত তিনটায় বরইতলী ইউনিয়নে পাহাড়ধসে দুই শিশু-কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার বরইতলী, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, হারবাং, কৈয়ারবিল, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, ফাঁসিয়াখালী, লক্ষ্যারচর ও চকরিয়া পৌরসভার শতাধিক গ্রাম এখন পানির নিচে। দুই দিন ধরে এসব ইউনিয়নের ৫০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হলেও গতকাল বুধবার রাত তিনটার পর নতুন করে আরও ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
আজ দুপুরে হারবাং নোয়াপাড়া এলাকায় খালের পাড় ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। এতে হারবাং ইউনিয়নের অন্তত সাতটি গ্রামের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বরইতলী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকা পুরোটা পানির নিচে। প্লাবিত এলাকার লোকজন আত্মীয়-স্বজন ও উঁচু স্থানে অবস্থান নিয়েছে।
প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা
কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাউসার জান্নাত কুমকুম প্রথম আলোকে বলেন, বন্যার পানিতে ডুবে শিশুটি মারা গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিশুটির পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছেন।



