ঈদের প্রাক্কালে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীশূন্য পরিবেশ
ঈদ-উল-ফিতরের প্রাক্কালে শুক্রবার বিকেলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীদের উপস্থিতি অস্বাভাবিকভাবে কম ছিল। সাধারণত ঈদের আগে যে ভিড় ও ব্যস্ততা দেখা যায়, এবার তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে। ফেরি ও লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শনে দেখা গেছে, ঘাটগুলো প্রায় শূন্য এবং কোনো যাত্রী অপেক্ষা করছেন না।
ফেরিতে যাত্রী না থাকার চিত্র
বিকেল ৩টার দিকে ঘাট পরিদর্শনকালে দেখা যায়, বীরশ্রেষ্ঠ ভাষা সৈনিক ড. গোলাম মাওলা রো-রো ফেরিটি ৭ নম্বর ঘাটে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে। ফেরিটিতে কোনো যাত্রী নেই, আশেপাশেও যাত্রীদের অপেক্ষার দৃশ্য অনুপস্থিত। এই দৃশ্য ঈদের সাধারণ ব্যস্ততার সম্পূর্ণ বিপরীত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি), দৌলতদিয়া শাখার সহকারী সাধারণ ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, অধিকাংশ ঈদযাত্রী ইতিমধ্যেই তাদের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। এ কারণে টার্মিনালে চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি বলেন, "আমাদের প্রধান উদ্বেগ এখন ঈদের পর প্রত্যাবর্তনের যাত্রা। খারাপ আবহাওয়া পরিস্থিতি নৌপথে ভ্রমণের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে আমরা আশা করি, ছুটির পর কাজে ফেরার জন্য মানুষ নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারবেন।"
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
এদিকে, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষকে উচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নৌযানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জীবন বাঁচানো জ্যাকেট, বয়া এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।"
ঈদ যাত্রা মসৃণ হওয়ার তথ্য
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদ যাত্রায় দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া রুটে ভ্রমণ মূলত মসৃণ হয়েছে। বাড়ি ফেরার যাত্রীরা বড় ধরনের অসুবিধা ছাড়াই তাদের গন্তব্যে পৌঁছেছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, আগাম পরিকল্পনা এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে যাত্রীসুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি
ঈদের পর প্রত্যাবর্তনের সময় সম্ভাব্য চাপ ও আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে নজরদারি জোরদার করেছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে অতিরিক্ত ফেরি ও লঞ্চ চালু রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ঈদের আগে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের এই শান্ত পরিবেশ যাত্রী আগমন-প্রত্যাবর্তনের সময়সূচির পরিবর্তন এবং কর্তৃপক্ষের পূর্বপ্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ঈদের পরের যাত্রা নিরাপদ ও সুগম করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণে জোর দেওয়া হচ্ছে।



