ফরিদপুরে বজ্রপাতে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে মধুখালী ও সদর উপজেলায় আলাদা দুটি ঘটনায় কৃষক মো. লুৎফর রহমান (৪৭) এবং ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় আজাহারুল ইসলাম (৫৭) নিহত হন। স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা দেড়টার মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মধুখালীতে কৃষকের মৃত্যু
মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের মধ্য আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমান বাড়ির পাশের মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হন। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। আড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বদরুজ্জামান বাবু জানান, বজ্রপাতে লুৎফর রহমানের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পথে তার মৃত্যু ঘটে। মধুখালী থানার ওসি ফকির মো. তাইজুর রহমান মৌখিকভাবে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সদরে হাসপাতাল কর্মীর মৃত্যু
এদিকে, ফরিদপুর সদর উপজেলার আইজুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গি (সিঅ্যান্ডবি ঘাট) এলাকায় আজাহারুল ইসলাম মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন। তিনি ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সেই দিন বিকালে তার ডিউটি ছিল। হাসপাতালের সহকর্মী কাওসার হোসেন বলেন, আজাহারুল ইসলাম দুপুরে বাড়ির পাশের মাঠে গরু আনতে যান এবং বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার রাজকুমার বিশ্বাস ব্যাখ্যা করেন, ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে আজাহারুল ইসলাম গরু আনতে মাঠে যান, কিন্তু দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে মৃত অবস্থায় খুঁজে পান।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
এ ঘটনায় স্থানীয়রা শোক প্রকাশ করেছেন এবং বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ফরিদপুরে সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ উভয় ঘটনা তদন্ত করছে এবং মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
বজ্রপাত বাংলাদেশে একটি সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে, যা প্রায়ই প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা খোলা জায়গায় থাকাকালীন সতর্কতা অবলম্বন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার পরামর্শ দিচ্ছেন। ফরিদপুরের এই দুটি ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।



