পদ্মা নদীতে ঝড়ে তিনটি সিমেন্টবোঝাই ট্রলারডুবি, চালক-শ্রমিকরা সাঁতরে বেঁচেছেন
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীতে এক ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে তিনটি সিমেন্টবোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় ট্রলারগুলোতে কমপক্ষে ছয় হাজার ব্যাগ সিমেন্ট ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চালকরা। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, ট্রলারে থাকা সকল চালক ও শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হওয়ায় কোনো প্রকার হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
শুক্রবার দুপুরে নড়িয়া উপজেলার বাঁশতলা এলাকার পদ্মা নদীতে এই দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে সিমেন্টবোঝাই করে তিনটি ট্রলার ঝালকাঠি, ইন্দুরকানি ও গৌরনদীর দিকে রওনা হয়েছিল। দুপুরের দিকে নড়িয়ার পদ্মা নদীতে পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই বৈরী আবহাওয়া দেখা দেয় এবং প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারগুলো।
ঝড়ের সময় উত্তাল ঢেউ এড়াতে ট্রলার চালকরা তীরে ভেড়ানোর চেষ্টা চালান। কিন্তু প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় একে একে তিনটি ট্রলারই ডুবে যায়। তবে, এই সংকটময় মুহূর্তে ট্রলারে থাকা চালক ও শ্রমিকরা দ্রুত সাঁতরে নদীর তীরে উঠে আসতে সক্ষম হন। তাদের দ্রুত সাড়া দেওয়ার কারণে জীবন রক্ষা পায় বলে মনে করা হচ্ছে।
নৌপুলিশের বক্তব্য
এই ঘটনা সম্পর্কে সুরেশ্বর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল জলিল বলেন, "ঝড়ের কবলে পড়ে তিনটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। সৌভাগ্যবশত, চালকরা সাঁতরে তীরে উঠতে পারায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে নৌপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বৈরী আবহাওয়ার সময় নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পদ্মা নদীতে এমন ঝড় প্রায়শই দেখা যায়, কিন্তু এই ঘটনাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কারণ এটি একটি বড় ধরনের বাণিজ্যিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। ট্রলারগুলোতে থাকা বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট নদীতে ডুবে যাওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
এছাড়াও, তারা নদীপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সময় আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে বলে তাদের বিশ্বাস।



