টানা ভারী বর্ষণ ও দমকা ঝড়ের কারণে হবিগঞ্জ জেলার সদর, বানিয়াচং ও লাখাই উপজেলায় জনজীবন ও কৃষি খাতে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ধারাবাহিকতায় একদিকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, অন্যদিকে হাওরাঞ্চলের পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে কৃষকের স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
অতিবৃষ্টি ও ধানক্ষেতের ক্ষতি
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার বিভিন্ন হাওরে আকস্মিক পানি বৃদ্ধি পেয়ে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার প্রায় ১২০০ হেক্টর পাকা ধান তলিয়ে গেছে। মাঠভর্তি সোনালি ধান কাটা শেষ হওয়ার আগেই পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষি বিভাগের উদ্বেগ
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে হাওর ও নন-হাওর মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত হাওরাঞ্চলে প্রায় ৫৩ শতাংশ এবং নন-হাওর এলাকায় মাত্র ২০ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। ফলে অবশিষ্ট বিপুল পরিমাণ ফসল এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিপর্যয়
ঝোড়ো হাওয়ার তাণ্ডবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে আছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
গাছ ভেঙে বসতবাড়ির ক্ষতি
লাখাই উপজেলায় ঝড়ের সময় একটি বড় গাছ ভেঙে বসতবাড়ির ওপর পড়ে ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় অন্তত চার জন আহত হন। স্থানীয়ভাবে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রাণহানির ঘটনা
দুর্যোগের মাঝেই প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। চুনারুঘাট উপজেলার দৌলতখা আবাদ গ্রামের পার্শ্ববর্তী হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মোবিন মিয়া (১৮) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। তিনি একই গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে।
ক্ষতির আশঙ্কা
হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ দ্বীপক কুমার পাল জানান, ইতিমধ্যে প্রায় ১২০০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এখনও উজানের ঢল না এলেও কেবল বৃষ্টির পানিতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।



