পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
মার্কিন-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ডব্লিউএইচও আঞ্চলিক পরিচালক হানান বালখি পলিটিকোকে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের কর্মীরা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পরিণতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ
বালখি বলেন, 'সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে পারমাণবিক ঘটনা, এটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি চিন্তিত করছে। আমরা যতটা প্রস্তুতি নিই না কেন, ক্ষতি ঠেকানোর কিছু নেই। এই অঞ্চলের জন্য এবং এটা ঘটলে বিশ্বের জন্য পরিণতি দশকের পর দশক ধরে থাকবে।' তিনি উল্লেখ করেন, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা বা অস্ত্র ব্যবহার — উভয় অর্থেই পারমাণবিক ঘটনার জন্য কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও হামলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি শাসনের 'আসন্ন পারমাণবিক হুমকি দূর করার' প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যদিও তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে এমন কোনো প্রমাণ তিনি দেননি। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যা ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ফোরদো, ইস্পাহান ও নাতানজে নিশ্চিত করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন আক্রমণ শুরুর পর থেকেও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও ঐতিহাসিক উদাহরণ
এখন পর্যন্ত অঞ্চলে তেজস্ক্রিয় দূষণের কোনো খবর নেই। তবে বালখি ব্যাখ্যা করেন, পারমাণবিক ঘটনা ঘটলে মানুষের ফুসফুস ও ত্বকে তাৎক্ষণিক ক্ষতি এবং ক্যান্সার ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়বে। তিনি ১৯৮৬ সালের চেরনোবিল দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে প্রথম কয়েক মাসে প্রায় ৩০ জন মারা গিয়েছিলেন এবং পরে হাজারো থাইরয়েড ক্যান্সারের রোগী হয়েছেন, সাথে দশকের পর দশক ধরে মানসিক উদ্বেগ চলেছে।
আশঙ্কা ও প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের এআই উপদেষ্টা ডেভিড স্যাকস বলেছেন, 'ইসরাইল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবছে' — এই আশঙ্কা তার মধ্যেও আছে। তবে ট্রাম্প এই কথা নাকচ করে বলেছেন, 'ইসরাইল তা করবে না।' বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই পরিস্থিতিতে সতর্কতা অবলম্বন করে চলেছে এবং সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করছে।



