ইরানে 'কালো বৃষ্টি'র বিপদ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা
ইরানে 'কালো বৃষ্টি'র বিপদ: ডব্লিউএইচও'র সতর্কতা

ইরানে 'কালো বৃষ্টি'র বিপদ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা

ইরানের তেল স্থাপনায় ইসরাইলি হামলার পর সৃষ্ট 'কালো বৃষ্টি' জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, মার্কিন-ইসরাইলি বোমাবর্ষণের ফলে আকাশে তৈরি হওয়া এই কালো বৃষ্টি এবং বিষাক্ত যৌগগুলো শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে।

ডব্লিউএইচও'র জরুরি সতর্কতা

জেনেভায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার বলেন, 'কালো বৃষ্টি এবং এর সঙ্গে আসা অ্যাসিড বৃষ্টি প্রকৃতপক্ষে জনস্বাস্থ্যের জন্য, বিশেষ করে শ্বাসতন্ত্রের জন্য একটি বড় বিপদ।' তিনি আরও জানান, এই হামলার কারণে বাতাসে প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত হাইড্রোকার্বন, সালফার অক্সাইড এবং নাইট্রোজেন যৌগ ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরানে সংস্থাটির একটি অফিস রয়েছে এবং তারা স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। সংস্থাটি এই সপ্তাহে তেল-মিশ্রিত বৃষ্টির একাধিক রিপোর্ট পেয়েছে বলে জানিয়েছে।

ঘরে থাকার পরামর্শ

ইরান ইতোমধ্যে জনগণকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি এই পরামর্শ সমর্থন করে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে লিন্ডমেয়ার বলেন, বর্তমানে যা ঝুঁকির মুখে রয়েছে—অর্থাৎ তেল মজুত করার স্থাপনা এবং শোধনাগারগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে, যার ফলে আগুন লেগেছে এবং বাতাসের গুণমান নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—সেই বিবেচনায় ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শটি অবশ্যই একটি ভালো সিদ্ধান্ত।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতিতে জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় জরুরি। ডব্লিউএইচও ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে চলেছে যাতে এই পরিবেশগত বিপর্যয়ের স্বাস্থ্যগত প্রভাব ন্যূনতম রাখা যায়।

স্বাস্থ্যগত প্রভাব

কালো বৃষ্টি এবং অ্যাসিড বৃষ্টির কারণে নিম্নলিখিত স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে:

  • শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্ট
  • চোখ, নাক ও গলায় জ্বালাপোড়া
  • ত্বকের অ্যালার্জি ও প্রদাহ
  • দীর্ঘমেয়াদী ফুসফুসের ক্ষতি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই হামলার পর ইরানে বাতাসের গুণমান নিয়ে উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বায়ু দূষণ পর্যবেক্ষণ জোরদার করেছে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতারও আহ্বান জানিয়েছে।