কলম্বিয়ায় ডানপন্থী এসপ্রিয়েলার নাটকীয় জয়, ট্রাম্পের অভিনন্দন
কলম্বিয়ায় ডানপন্থী এসপ্রিয়েলার নাটকীয় জয়

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডানপন্থী প্রার্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। প্রাথমিক গণনায় দেখা গেছে, এসপ্রিয়েলা খুবই সামান্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। গত ৩১ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের এ ফলাফল কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত মোকাবিলায় সরকারের কর্মপন্থায় এক নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।

নির্বাচনের ফলাফল ও প্রতিক্রিয়া

প্রাথমিকভাবে ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এসপ্রিয়েলা প্রায় ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থী ইভান সেপেদা পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। ক্যারিবীয় উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়ে ওঠা এসপ্রিয়েলা এবারের নির্বাচনে ব্যাপক আঞ্চলিক সমর্থন পেয়েছেন।

প্রাথমিক ফলাফল জানার পর উপকূলীয় শহর বারানকিলায় উদ্‌যাপনে মাতেন এসপ্রিয়েলার হাজারো সমর্থক। সেখানে সমর্থকদের উদ্দেশে কলম্বিয়ার হবু প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আজ আমাদের দেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এটা এমন একটি অধ্যায়, যা লাখ লাখ নাগরিকের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ইচ্ছার ওপর নির্মিত।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের সমর্থন ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এবারের নির্বাচনে ডানপন্থী এসপ্রিয়েলাকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে এসপ্রিয়েলা অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠী, মাদক পাচার ও অপরাধের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রাথমিক ফলাফলে এসপ্রিয়েলা স্পষ্ট ব্যবধানে জয়ী হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘তিনি জিতেছেন, এটা বড় ঘটনা!’ এসপ্রিয়েলাকে আরও অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীর অবস্থান

এসপ্রিয়েলা বামপন্থী ইভান সেপেদাকে হারিয়েছেন। কলম্বিয়ার বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সেপেদা। পেত্রোর রাজনৈতিক দল থেকে সেপেদা প্রার্থী হয়েছিলেন। যদিও সেপেদা এখনো পরাজয় স্বীকার করে নেননি। তিনি বলেছেন, সবে প্রাথমিক গণনা হয়েছে। এখনো নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা বাকি।

এসপ্রিয়েলার রাজনৈতিক পটভূমি ও প্রতিশ্রুতি

৪৭ বছর বয়সী এসপ্রিয়েলা নিজেকে ‘দ্য টাইগার’ নামে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘আমি কলম্বিয়ার সব মানুষের শাসক হব। যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যাঁরা অন্য প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন, তাঁদের সবারই।’ ১৯৯১ সালে প্রণীত কলম্বিয়ার সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের কথা জানিয়ে এসপ্রিয়েলা বলেন, তিনি সংবিধানের সুরক্ষায় কাজ করবেন।

আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা পেশায় আইনজীবী ও ব্যবসায়ী। রাজনীতিতে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। আইনজীবী হিসেবে এসপ্রিয়েলার মক্কেলদের মধ্যে ছিলেন ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যালেক্স সাব। তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনেছে। হবু প্রেসিডেন্ট এসপ্রিয়েলা কলম্বিয়ার অন্যতম কুখ্যাত প্রতারক ডেভিড মার্সিয়া গুজম্যানের হয়েও আইনি লড়াই করেছেন।

সামরিক অভিযান ও নীতি পরিবর্তন

হবু প্রেসিডেন্ট এসপ্রিয়েলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি কখনোই অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবেন না। শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অভিযান চালাবেন। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন তিনি। এ ছাড়া কলম্বিয়ার জঙ্গলে মেগা-কারাগার নির্মাণ, বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়ে আনা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংস্কারের অঙ্গীকারও করেছেন এসপ্রিয়েলা।

সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা

এসপ্রিয়েলার একজন সমর্থক প্যাট্রিসিয়া বলেন, ‘এ দেশে আমরা খুন দেখতে দেখতে ক্লান্ত। এ সরকারের আমলাতন্ত্রের প্রতিও বিরক্ত। এখন আমরা উপকূলীয় এলাকা থেকে একজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছি।’ আরেকজন সমর্থক নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমরা টাইগারকে নিয়ে গর্বিত। আশা করি, সবকিছু বদলে দেবেন তিনি। নতুন ব্যবস্থায় সবকিছুর ওপর অগ্রাধিকার পাবে চাকরি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো।’

ভোটের প্রচারের নানা সমাবেশে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এসপ্রিয়েলা ও তাঁর সমর্থকদের কলম্বিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি পরে থাকতে দেখা গেছে। সমালোচকেরা বলেন, এসপ্রিয়েলা ফুটবলে রাজনীতিকরণ করেছেন। সামরিক কায়দায় অভিবাদনের জন্যও সমালোচিত হয়েছেন তিনি। প্রচারে প্রায়শই বুলেটপ্রুফ কাচে ঘেরা জায়গা থেকে এসপ্রিয়েলাকে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে দেখা গেছে।

ট্রাম্প-পেত্রোর বিরোধ ও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক

কলম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট পেত্রোর মধ্যে প্রায়শই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের কারণে সেই সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি, শুল্ক এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বামপন্থী পেত্রোর মতবিরোধ দেখা দেয়। এখন নির্বাচনে এসপ্রিয়েলার জয়ের মধ্য দিয়ে কলম্বিয়া ডানপন্থায় ঝুঁকে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কলম্বিয়ায় বাড়বে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ প্রভাব।