দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় শনিবার (২০ জুন) ভোরে এক ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১৩ জন। নিহত সেনার নাম সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস নীর বেন আরি (২১)। তিনি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কমান্ডো ব্রিগেডের ম্যাগলান ইউনিটের সদস্য ছিলেন।
হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা দখলের অভিযান
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, হিজবুল্লাহর একটি বড় ভূগর্ভস্থ স্থাপনা দখলের অভিযান চলাকালে তিনি নিহত হন। স্থাপনাটি আলি তাহের রিজ এলাকার নিচে অবস্থিত। আইডিএফ আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলের’ বাইরে তারা হামলা বন্ধ রেখেছে, তবে ওই অঞ্চলের ভেতরে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা
হামলার পর আইডিএফ দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকায় হিজবুল্লাহর বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এর আগের দিন শুক্রবার ভোরেও একই এলাকায় হিজবুল্লাহর হামলায় চারজন ইসরাইলি সেনা নিহত হন। ওই সময় একটি ট্যাংকে ড্রোন বা অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবারের হামলায় নিহত সেনাদের পরিচয়
নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডর গেদালিয়া বেন সিমহোন (৩২)। এ ছাড়া স্টাফ সার্জেন্ট ইওয়াভ ক্লাইন (২১) এবং স্টাফ সার্জেন্ট লিয়াভ কাবাবিয়া (২০)-এর পরিচয় প্রকাশ করেছে সেনাবাহিনী। চতুর্থ নিহত সেনার নাম তখনও প্রকাশ করা হয়নি।
সামরিক তদন্তের ফলাফল
সামরিক তদন্তে বলা হয়েছে, কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বিপরীতে ট্যাংকটি হিজবুল্লাহর হামলার কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল; এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির ফল ছিল না। আইডিএফের ধারণা, ট্যাংকটিতে অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র অথবা অ্যান্টি-ট্যাংক ওয়ারহেড বহনকারী ড্রোন আঘাত হেনেছিল।
হিজবুল্লাহর কৌশলগত ঘাঁটি
আইডিএফের মতে, আলি তাহের রিজের নিচে হিজবুল্লাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি রয়েছে, যা সংগঠনটির বদর আঞ্চলিক ডিভিশনের প্রধান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেনাবাহিনীর দাবি, ওই এলাকায় এখনও হিজবুল্লাহর বহু সদস্য ভূগর্ভস্থ অবস্থানে রয়েছে এবং গত কয়েক দিনে মাটির ওপরে ও নিচে উভয় জায়গায় সংঘর্ষ হয়েছে।



