ইসরাইলের উগ্রপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সোমবার (২২ জুন) ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘কান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, লেবানন নামক আরব রাষ্ট্রটি ‘ইসরাইলের খেলার মাঠ’ হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইসরাইল কোনোভাবেই লেবাননে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে পারে না।
যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান
বেন-গভির লেবাননের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইসরাইলের এই যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যানের বার্তা পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন তিনি। ট্রাম্পকে একজন প্রকৃত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ট্রাম্পের প্রতি ইসরাইল অবশ্যই ভদ্রতা ও আন্তরিকতা বজায় রাখবে, তবে তাকে দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দেওয়া দরকার যে ইসরাইল এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত নয়। রণক্ষেত্রে ইসরাইলি সেনারা ভালো ফলাফল পাচ্ছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক ইসরাইল নিজেই—এমনটাই মনে করেন এই চরমপন্থী মন্ত্রী।
মার্কিন-ইরান সমঝোতা ও ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ
বেন-গভিরের এমন মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা এবং লেবানন সীমান্তে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে তীব্র মতবিরোধ চলছে। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ইরান ও হিজবুল্লাহর সাথে মার্কিন প্রশাসনের আলোচনার পদ্ধতি নিয়ে ইসরাইলের ভেতরে সমালোচনা দিন দিন বাড়ছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘আই টুয়েন্টিফোর নিউজ’ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো চুক্তি হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তার সহযোগীদের আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে তেল আবিব আশঙ্কা করছে। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন এবং তাদের আলোচনাকারী দল তেহরান ও হিজবুল্লাহর আদর্শিক অবস্থান বুঝতে ভুল করছে। তারা উপহাসচ্ছলে মন্তব্য করেছেন যে ট্রাম্প ও তার দল ‘শিয়া ভাষা বা তাদের মনস্তত্ত্ব বোঝেন না’।
নেতানিয়াহুর নির্দেশনা ও পঞ্চম দফার বৈঠক
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই গত শনিবার (২০ জুন) প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে পঞ্চম দফার সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধের লক্ষ্যে গত এপ্রিল মাস থেকে শুরু হওয়া এই আলোচনা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই চার দফা বৈঠকের পর এই নতুন বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
হতাহতের পরিসংখ্যান ও দখলদারিত্ব
এদিকে, লেবাননের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ৪,১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১২,০০০-এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি, দক্ষিণ লেবাননের বিশাল একটি অংশ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এবং কিছু অংশ ২০২৩-২০২৪ সালের যুদ্ধের সময় থেকে এখনও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দখলে রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।



