মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ইইউর অর্থনীতি ও উৎপাদনশীলতা বিষয়ক কমিশনার ভালদিস ডোমব্রোভস্কিস। তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে ইইউর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ২ থেকে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। যুদ্ধের প্রভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এর দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে, যা জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
জ্বালানি ও পরিবহন খাতে চাপ
ডোমব্রোভস্কিস আরও জানান, উড়োজাহাজের জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি এবং কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিন ইইউর প্রায় ৫০ কোটি ইউরো (প্রায় ৫৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার) অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা জ্বালানি, পরিবহন এবং উৎপাদন খাতে চাপ আরও বাড়াচ্ছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব
ইইউ কমিশনার আরও বলেন, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়ার কারণে ইইউর অর্থনীতি ইতিমধ্যেই মন্দার ঝুঁকিতে রয়েছে। এলএনজির দাম ৬০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় শিল্পোৎপাদন ও গৃহস্থালি জ্বালানি খরচ উভয়ই বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তেল ও গ্যাস সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করছে, যা বিশ্ববাজারে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ডোমব্রোভস্কিস সতর্ক করে বলেন, যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে ইইউর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও কমে যেতে পারে এবং বেকারত্ব বাড়তে পারে। তিনি ইইউ সদস্য দেশগুলোর প্রতি জ্বালানি সাশ্রয় ও বিকল্প উৎসে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
সূত্র: আল-জাজিরা



