দেশের শিল্প খাতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে দৃশ্যমান করার লক্ষ্যে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)। শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘তবু অটল: বাংলাদেশের শিল্প বিপর্যয়, শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও স্মৃতির মূল্য’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। বিলসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রদর্শনীতে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিসহ গত দুই দশকে সংঘটিত বিভিন্ন শিল্প দুর্ঘটনার চিত্র, শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি, ক্ষতি, বেদনা এবং পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ৫ নম্বর গ্যালারিতে এই প্রদর্শনী চলবে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন। এ ছাড়া বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি মেসবাহউদ্দিন আহমেদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
শিল্প খাতে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের বিভিন্ন শিল্প খাতে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গত এক দশকে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও এখনো কাঠামোগত দুর্বলতা, অপর্যাপ্ত মনিটরিং ও পরিদর্শন, আইনের দুর্বল বাস্তবায়ন এবং পরিবেশগত ঝুঁকির মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ শ্রমিকদের জীবন, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক জীবনমানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রদর্শনীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
আয়োজকেরা আশা করছেন, প্রদর্শনীটি শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা, বেদনা এবং দৃঢ়তার গল্প সামনে এনে একদিকে যেমন জনসচেতনতা বৃদ্ধি করবে, অন্যদিকে নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করবে। বিলসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিল্পায়নের অগ্রগতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা শ্রমিকদের বাস্তবতা এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জগুলোকে জনসাধারণ, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি নিরাপদ কর্মপরিবেশকে একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা।
দেশের শিল্প খাতে সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলোর বাস্তবতা ও প্রভাবকে দৃশ্যমান করা, শ্রমজীবী মানুষের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠকে সামনে আনা এবং নিরাপদ কর্মক্ষেত্রকে একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এই আয়োজনের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে বিলস। সংগঠনটি বলছে, পাশাপাশি নীতিনির্ধারক, শিল্প মালিক, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও অন্য অংশীজনদের মধ্যে সংলাপ ও জবাবদিহি জোরদার করে টেকসই, নিরাপদ ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগকে উৎসাহিত করাও এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।



