বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েই চলছে। এমন পরিস্থিতিতে রেকর্ড স্বর্ণ রফতানি করেছে জাপান। ২০২৫ সালে দেশটি চার ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ২৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্বর্ণ রফতানি করেছে। দেশটিতে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা স্বর্ণও রফতানিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর নিক্কেই এশিয়ার।
রফতানি ও আমদানির তথ্য
জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণের রফতানি আগের বছরের চেয়ে ৩৫ দশমিক ছয় শতাংশ বা এক দশমিক শূন্য সাত ট্রিলিয়ন ইয়েন বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৮৮ সাল থেকে স্বর্ণ রফতানির তথ্য সংরক্ষণ করছে জাপান। এরপর থেকে ২০২৫ সালেই সর্বোচ্চ রফতানি হয়েছে।
রফতানির পাশাপাশি দেশটিতে স্বর্ণের আমদানিও বেড়েছে। ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় ১৭৭ দশমিক সাত বিলিয়ন ইয়েনের স্বর্ণ আমদানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১২০ শতাংশ বেশি।
বিশ্ববাজারের প্রভাব
২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের মতো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণে বিনিয়োগ করা ব্যাপকহারে শুরু করে। এর জেরে মূল্যবান ধাতুটির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত মূল্যস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার কমানোর প্রত্যাশা কমে যাওয়া স্বর্ণের দাম কিছুটা হ্রাস করেছে। কিন্তু, এখনও ধাতুটিতে বিনিয়োগ ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
চোরাচালানের স্বর্ণ রফতানি
জাপানের অভ্যন্তরীণ স্বর্ণ উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম। ফলে রফতানি ও আমদানির ব্যবধান বাড়াকে শুধু মূল্যবৃদ্ধি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। ধারণা করা হচ্ছে, আগে চোরাচালানের মাধ্যমে জাপানে আনা স্বর্ণ এখন আরও বেশি পরিমাণে বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে।
চোরাচালানের মাধ্যমে আনা স্বর্ণ জাপানে আমদানির ওপর আরোপিত সাধারণ ১০ শতাংশ ভ্যাট এড়িয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এ ধরনের স্বর্ণ দেশে কর-অন্তর্ভুক্ত দামে বিক্রি করে মুনাফা অর্জনের পর তা আবার রফতানি করা হচ্ছে।



