যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজার বর্তমানে বিনিয়োগে নিম্নমুখী আত্মবিশ্বাস ও সতর্কতার এক চক্রে পড়ে ধুঁকছে। অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নীতির কারণে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করছে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা যোগ হয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বেকারত্বের হার বৃদ্ধি
যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের (ওএনএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশটিতে ১৬ বছর ও তার বেশি বয়সীদের বেকারত্বের হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এই হার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পূর্ববর্তী তিন মাসের রেকর্ড করা ৪.৯ শতাংশ বেকারত্বের চেয়েও বেশি।
চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়কালে দেশটিতে বেতনভুক্ত কর্মচারীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৪ হাজার (০.৩ শতাংশ) এবং পূর্ববর্তী প্রান্তিকের তুলনায় ২০ হাজার (০.১ শতাংশ) কমেছে।
শূন্য পদের সংখ্যা কমেছে
নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হতে থাকায় শ্রমবাজারের গতিশীলতা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ওএনএস-এর তথ্য বলছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসে শূন্য পদের সংখ্যা তার আগের তিন মাসের (নভেম্বর-জানুয়ারি) তুলনায় ৩.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৭ লাখ ৫ হাজারে নেমে এসেছে। এটি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি-এপ্রিলের পর খালি পদের সংখ্যার সর্বনিম্ন রেকর্ড।
শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ে ওএনএস-এর অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান পরিচালক লিজ ম্যাককিওন বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শ্রমবাজার এখনও দুর্বল রয়ে গেছে; যেখানে শূন্য পদের সংখ্যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে এবং বেকারত্বের হার এক বছর আগের চেয়ে বেশি। মার্চ পর্যন্ত বিগত তিন মাসে বেতনভুক্ত কর্মচারীর সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে, আর নিয়মিত মজুরি বৃদ্ধির গতি আরও ধীর হয়েছে।’
কম বেতনের খাতে বড় পতন
লিজ ম্যাককিওন উল্লেখ করেন, আতিথেয়তা এবং খুচরা বিক্রেতার মতো কম বেতনের খাতগুলোতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এবং গত এক বছরে খালি পদ ও বেতনভুক্ত কর্মচারীর সংখ্যায় সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে। তিনি আরও জানান, এপ্রিল মাসে বেতনভুক্ত মানুষের সংখ্যার প্রাথমিক হিসাবগুলো শ্রমবাজারের আরও দুর্বল চিত্রই নির্দেশ করছে।
পাব শিল্পে চাকরি হারানোর ঘটনা
ব্রিটিশ বিয়ার অ্যান্ড পাব অ্যাসোসিয়েশন-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ব্রিটেনজুড়ে ১৬১টি পানশালা বন্ধ হয়ে গেছে, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় দুটির মতো। এই বন্ধের কারণে ২ হাজার ৪০০-এরও বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন, যার মধ্যে অর্ধেকই তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির বিজনেস ইকোনমিক্সের অধ্যাপক ডেভিড বেইলি বলেন, উচ্চ জাতীয় বিমা এবং ন্যূনতম মজুরি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে। বিশেষ করে যেসব খাত তরুণ এবং কম বেতনের শ্রমিকদের ওপর বেশি নির্ভরশীল, সেই খাতগুলোই এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র: সিনহুয়া



