গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪০ জন নিহত
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। শনিবার ভোরে এ হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৮০ জনের বেশি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, হামলায় বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। একটি হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে এখনও অনেক মানুষ আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।'
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা উভয়পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।
হামলার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোররাতে হঠাৎ করেই ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একের পর এক বিমান হামলা চালানো হয়। হামলায় গাজার উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা জঙ্গি গোষ্ঠী হামাসের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তবে হামাসের কোনো মুখপাত্রের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আহত ও হতাহতের সংখ্যা
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত ৮০ জনের বেশি। হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় বাড়ছে। চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও ওষুধের অভাব দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, হামলায় তাদের একটি স্কুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্কুলটিতে অন্তত ২০০ শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছিল।
উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হামলার ফলে গাজায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। হামাসের পক্ষ থেকে পাল্টা হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ বাড়াচ্ছে। তবে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।



