বিশ্বে বিরল ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাজ্যে। যমজ বোন হলেও তাদের বাবা আলাদা। মিশেল ও লাভিনিয়া ওসবোর্ন নামের এই যমজ বোনেরা ১৯৭৬ সালে নটিংহামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে একটি ই-মেইল তাদের জীবনের চিরচেনা সত্যকে বদলে দেয়। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে জানা যায়, তারা একই মায়ের গর্ভে বেড়ে উঠলেও তাদের বাবা ভিন্ন।
বিরল চিকিৎসা ঘটনা
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ঘটনার নাম ‘হেটারোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন’। সাধারণত এক ঋতুচক্রে নারীর শরীরে একাধিক ডিম্বাণু তৈরি হলে এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ফলে ডিম্বাণুগুলো নিষিক্ত হলে এমন ঘটনা ঘটে। বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত মাত্র ২০টি ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিবিসি রেডিও ৪-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মিশেল ও লাভিনিয়াই যুক্তরাজ্যের প্রথম নথিভুক্ত যমজ, যাদের বাবা আলাদা।
পরীক্ষার ফলাফল
২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, যেদিন তাদের মা মারা যান, সেদিনই ডিএনএ পরীক্ষার ফল আসে। মিশেলের বাবা ‘জেমস’ নন, বরং ‘অ্যালেক্স’ নামের এক ব্যক্তি, যিনি মাদকাসক্ত হয়ে রাস্তায় জীবন কাটাতেন। অন্যদিকে লাভিনিয়ার বাবা ‘আর্থার’ নামের এক ব্যক্তি। লাভিনিয়া এখন আর্থারের খুব কাছে থাকেন এবং তিনি দুই বোনকেই আপন করে নিয়েছেন।
বোনদের প্রতিক্রিয়া
৪৯ বছর বয়সী লাভিনিয়া বলেন, ‘ও-ই (মিশেল) ছিল আমার একমাত্র নিশ্চিত আশ্রয়। হুট করে মনে হলো, সেই ধ্রুব সত্যটাই আর নেই।’ তবে মিশেল শান্ত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি অবাক হইনি। এটা অদ্ভুত ও বিরল, কিন্তু আমার কাছে বিষয়টির একটা মানে দাঁড়িয়েছে।’
শৈশব ও পরিবার
যমজ বোনেরা শৈশবে মায়ের কাছে খুব একটা আদর পাননি। পাঁচ বছর বয়সে মা তাদের ফেলে লন্ডনে পড়তে চলে যান। তারা এক ‘নানি’র (মায়ের বন্ধুর মা) কাছে বড় হন। কৈশোরে ‘জেমস’ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়, যাকে মা বাবা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু মিশেলের সবসময় সন্দেহ ছিল। ২০২১ সালে মায়ের স্মৃতিভ্রম রোগ ধরা পড়লে সত্য জানার আর উপায় ছিল না।
বাবার সন্ধান
লাভিনিয়া এখন তার বাবা আর্থারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে আছেন। আর্থারের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন, কঠিন এক বিপদের মুহূর্তে তাদের মা আর্থারের কাছে সাহায্য চাইতে গিয়ে গর্ভবতী হয়েছিলেন। মিশেল তার জৈবিক বাবা অ্যালেক্সের দেখা পেলেও তার সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাননি।
বোনের বাঁধন
যমজ বোনেরা মনে করেন, ডিএনএ তাদের পরিচয় আলাদা করে দিলেও তাদের আত্মার বাঁধন ছিঁড়তে পারবে না। লাভিনিয়া বলেন, ‘আমরা অলৌকিক কিছুর অংশ। আমাদের ঘনিষ্ঠতা কোনোদিন ভাঙবে না।’ মিশেলের কণ্ঠেও একই সুর, ‘ও আমার যমজ বোন, কোনো কিছুই এ সত্য পালটাতে পারবে না।’



