মঙ্গলবার রাশিয়া জানিয়েছে, তারা মালিতে জরুরি ভিত্তিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। এর আগে মালির সামরিক বাহিনী সতর্ক করে দিয়েছে যে, সপ্তাহান্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর দখলকারী বিদ্রোহীরা নতুন হামলার জন্য 'পুনরায় সংগঠিত' হচ্ছে।
কিদাল থেকে প্রত্যাহার
রাশিয়ার আফ্রিকা কোরের আধাসামরিক ইউনিটকে উত্তরের শহর কিদাল থেকে প্রত্যাহার করতে হয়েছে। বিদ্রোহী ও জিহাদিদের সমন্বিত হামলায় মস্কো-সমর্থিত শাসক জান্তার কৌশলগত অবস্থানগুলি লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
একটি অভ্যুত্থান চেষ্টায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত এবং রাষ্ট্রপতি ভবন লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল বলে মস্কো জানিয়েছে।
ক্রেমলিনের বিবৃতি
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা মনে করি দেশটি যত দ্রুত সম্ভব শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে ফিরে আসা গুরুত্বপূর্ণ।' তিনি আফ্রিকা কোর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন।
একটি পৃথক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিদ্রোহীদের সম্পর্কে বলে, 'শত্রু তার আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্য ত্যাগ করেনি এবং পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে। মালি প্রজাতন্ত্রের পরিস্থিতি কঠিন রয়ে গেছে।'
আফ্রিকা কোর ইউনিটগুলি 'তাদের নির্ধারিত মিশন চালিয়ে যাচ্ছে এবং জঙ্গিদের হামলা প্রতিরোধে প্রস্তুত রয়েছে, সক্রিয় পুনরুদ্ধার চালিয়ে যাচ্ছে এবং সনাক্ত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করছে' বলে বিবৃতিতে যোগ করা হয়েছে।
হতাহত ও জান্তা নেতার অবস্থান
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জি বোরিসেনকো মঙ্গলবার বলেছেন, 'দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলায়' রুশ সেনারা হতাহত হয়েছে।
মালির সামরিক শাসক জেনারেল আসিমি গোইতা, যিনি ২০২০ সালের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জান্তাকে ক্ষমতায় এনেছিলেন, সপ্তাহান্তে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে দেখা যায়নি বা প্রকাশ্যে কথা বলেননি।
গোইতার ভাগ্য বা অবস্থান সম্পর্কে ক্রেমলিন অবগত কিনা জানতে চাইলে পেসকভ বলেন, 'আপনাকে সেই তথ্য মালিতে খুঁজতে হবে, ক্রেমলিনে নয়।'
রাজধানীতে হামলা
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লড়াইয়ে 'রাজধানী বামাকোর মূল স্থাপনা, বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি ভবন দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল।'
এতে বলা হয়, আফ্রিকা কোর 'সংখ্যায় অনেক বেশি বাহিনীর' মুখোমুখি হয়েছিল এবং কিদাল থেকে প্রত্যাহারের আগে ২৪ ঘণ্টার বেশি লড়াই করেছিল। এই সিদ্ধান্ত মালিয়ান নেতারা নিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলি মালিয়ান রাষ্ট্রের জন্য ২০১২ সালের মার্চ মাসের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেবার সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্সের বাহিনী হামলা প্রতিহত করেছিল। ফ্রান্স এখন বিশাল সাহেল দেশটি ছেড়ে গেছে।



