শিক্ষকের থাপ্পড়ে কানের পর্দা ফাটল ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর
শিক্ষকের থাপ্পড়ে কানের পর্দা ফাটল শিক্ষার্থীর

নওগাঁর মহাদেবপুরে এক শিক্ষকের থাপ্পড়ে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ফেটে গেছে। রাব্বি হোসেন (৯) নামের ওই শিক্ষার্থীর বাম কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ১২ হাজার টাকায় আপস-মীমাংসা করেছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার বিবরণ

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জানা যায়, ২১ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাব্বি হোসেনের সঙ্গে তার এক সহপাঠীর বাগবিতণ্ডা হয়। এটা জানার পর ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামীম রেজা শিক্ষার্থী রাব্বি হোসেনকে ডেকে নিয়ে বাম কানের উপর সজোরে বেশ কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। সঙ্গে সঙ্গেই ওই শিক্ষার্থীর কান দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে।

চিকিৎসা ও আপস

এ সময় রাব্বি ছুটে বাড়িতে গেলে তার অভিভাবকরা গ্রাম্য ডাক্তার মো. আনিসুর রহমান চঞ্চলের কাছে নিয়ে যান। ডাক্তার তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার এক দিন পার হলেও তার কানের রক্ত পড়া বন্ধ না হওয়ায় ডাক্তারের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁর নাক-কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পরে তার কানের রক্ত পড়া বন্ধ হলেও এখনো কানে ঠিকমতো শুনতে পাচ্ছে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের মধ্যস্থতায় অভিভাবকদের ডেকে স্থানীয়দের মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে চিকিৎসার খরচ বাবদ ১২ হাজার টাকা দেন শিক্ষক শামীম রেজা। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীর কান অপারেশন করতে হলে তার যাবতীয় খরচ দেবেন বলে অঙ্গীকার করেন শিক্ষক শামীম রেজা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিভাবকের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষার্থী রাব্বি হোসেনের মা বলেন, ঘটনার পর ওই শিক্ষক আমার সন্তানের খোঁজখবর পর্যন্ত নেননি। আমার ছেলের চিকিৎসা এখনো চলমান রয়েছে। এর মধ্যে আমরা অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে বিষয়টি জানতে পেরে প্রধান শিক্ষক আমাদের ডেকে নিয়ে যান। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক শামীম রেজা ক্ষমা চেয়ে চিকিৎসা খরচ বাবদ ১২ হাজার টাকা দেন এবং ভবিষ্যতে অপারেশন করতে হলে সে খরচও দিতে চেয়েছেন।

শিক্ষকের অস্বীকৃতি

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শামীম রেজা তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিদ্যালয়ে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছোটখাটো একটি ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিটমাট করা হয়েছে।