হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধিতে সরকারের জরুরি 'ক্রাশ প্রোগ্রাম' শুরু
হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধিতে সরকারের জরুরি 'ক্রাশ প্রোগ্রাম'

হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধিতে সরকারের জরুরি 'ক্রাশ প্রোগ্রাম' শুরু

বিগত সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর কোনও ক্যাম্পেইন না হওয়ায় দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি সংসদে এক জরুরি নোটিশের জবাবে এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

ক্যাম্পেইনের অভাব ও টিকার সংকট

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর অন্তর হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও গত সাড়ে পাঁচ বছর কোনও ক্যাম্পেইন হয়নি। এর ফলে বিপুল সংখ্যক শিশু নিয়মিত টিকাদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং বর্তমানে হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে টিকার মজুতেও সংকট তৈরি হয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

জরুরি টিকাদান কর্মসূচির বিস্তারিত

বর্তমান হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে 'ক্রাশ প্রোগ্রাম' শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে গত ৫ এপ্রিল থেকে এই কর্মসূচি চালু হয়েছে। প্রথম ধাপে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় ৫৯ মাস বয়সী অর্থাৎ ৫ বছরের কম বয়সী ১২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দিনেই ৩০টি উপজেলায় ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা ৯৬ শতাংশ অর্জন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্প্রসারণ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে এবং ৩ মে থেকে সারা দেশের অবশিষ্ট জেলা ও সিটি কর্পোরেশনগুলোতে এই কর্মসূচি শুরু হবে। টিকাদানের পাশাপাশি শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলও খাওয়ানো হচ্ছে, যা তাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাস্থ্য সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

সংসদ সদস্যের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীতে আরও ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইসিইউ এবং ভেন্টিলেটরও প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া, আইসিডিডিআর-বি এর বিজ্ঞানী ডা. তাহমিদের উদ্ভাবিত মাত্র ৩০০ টাকা ব্যয়ের সাশ্রয়ী অক্সিজেন ইনফ্লো সিস্টেমের মাধ্যমে যেকোনো হাসপাতালে দ্রুত অক্সিজেন সেবা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বব্যাংক, ডব্লিউএইচও (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) এবং ইউনিসেফ এই সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। সমন্বয় নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৫০০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, করোনাকালীন সাশ্রয় হওয়া ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে ইউনিসেফ থেকে অতিরিক্ত হামের টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও সংকট না হয়।

মাঠ পর্যায়ের তদারকি ও ছুটি বাতিল

জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় মাঠ পর্যায়ের সকল স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করে নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও সংসদকে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই পদক্ষেপটি টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।