নাটোরে হামের বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু, ৪৮ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে
নাটোর সদর উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের বঙ্গজ্বল এলাকায় অবস্থিত রাণী ব্রজ সুন্দরী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি
নাটোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. কামাল উদ্দিন ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতে খায়ের আলম এবং নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফ আদনান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, "প্রত্যেক শিশু আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সব শিশুকে হামের টিকাসহ সকল টিকার আওতায় নিয়ে এসে তাদের জন্য একটি সুরক্ষিত বলয় তৈরি করতে চাই। এই লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করে যাবে।"
টিকাদান কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া জানান, হামের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে নাটোর সদর উপজেলাসহ সারাদেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। নাটোর পৌরসভা এবং সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে।
- টিকা দেওয়া হবে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের।
- মোট ৪৮ হাজার ৪১৪ জন শিশুকে হামের টিকা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ রোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন যে, এই টিকাদান কার্যক্রম শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তারা অভিভাবকদের শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
সমন্বিত প্রচেষ্টা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই টিকাদান কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে অন্যান্য রোগের প্রতিরোধেও অনুরূপ কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় জনগণ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সহযোগিতায় কার্যক্রমটি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



