বাংলাদেশের হাম টিকা বয়স কমানো: জরুরি পদক্ষেপ নাকি ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি?
বাংলাদেশ সরকার হাম টিকা প্রদানের বয়স সীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা লঙ্ঘন করলেও বর্তমান সংকট মোকাবিলায় একটি জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়া এবং শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না।
ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের অবহেলা
ডেইলি স্টার পত্রিকার একটি সম্পাদকীয় নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাম টিকাদান কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে “অবহেলা ও উদাসীনতার শিকার হয়েছে।” নিয়মিত টিকাদানের কভারেজ হ্রাস পেয়েছে, সম্প্রসারণ কার্যক্রম অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একটি নিয়ন্ত্রণে থাকা রোগের পুনরুত্থান প্রতিরোধ ও পূর্বাভাস দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ এখন যে অসাধারণ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে, তা সাহসী উদ্ভাবনের চিহ্ন নয় বরং একটি ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার লক্ষণ।
জরুরি পদক্ষেপের সীমাবদ্ধতা
টিকা বয়স কমানো তাত্ক্ষণিক সংকট প্রশমনে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু এটি সামগ্রিক সংস্কারের বিকল্প হতে পারে না। একসময় দক্ষ টিকাদানের মডেল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ এখন এমন হতাশাজনক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। গত দুই বছরে দেশটি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেলেও, এটি আমাদের টিকাদান প্রচেষ্টাকে এতটা ক্ষতিগ্রস্ত করার কোনো অজুহাত হতে পারে না।
শিশু মৃত্যুর পেছনের কারণ
হাম ও অনুরূপ রোগে শিশু মৃত্যুর ঘটনাগুলো অপর্যাপ্ততা ও অবহেলার ফলাফল। বাংলাদেশ এমন ব্যর্থতাগুলোকে স্বাভাবিকীকরণ করার সামর্থ্য রাখে না এবং এই সংকট একটি জাগরণের আহ্বান হিসেবে কাজ করা উচিত। নতুন সরকারকে এখন এটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে আমাদের শিশুদের রক্ষা করার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই।
এই পদক্ষেপ যদিও অপরিহার্য, তবুও এটি একটি কঠোর অনুস্মারক যে কীভাবে অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে এই পর্যায়ে অবনতি ঘটাতে দিয়েছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এমন সংকট পুনরাবৃত্তি না হয়।



