স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাম টিকা দাবি অসত্য: রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে যা উঠে এলো
হাম টিকা দাবি অসত্য: রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধান

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাম টিকা দাবি নিয়ে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধান: যা জানা গেল

দেশে সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে অন্তত ১২ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং চার ডজনেরও বেশি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতালগুলোতে কয়েক হাজার শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল রোববার এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন যে গত আট বছর ধরে হামের টিকা না দেওয়ার কারণেই বর্তমানে এই রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা নতুন করে টিকার জন্য বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

তবে রিউমর স্ক্যানার টিম সোমবার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য সত্য নয়। তাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে গত আট বছরে হামের টিকা দেওয়া হয়নি বলে মন্ত্রীর দাবি ভিত্তিহীন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টিকাদানের প্রকৃত চিত্র

রিউমর স্ক্যানারের ওপেন সোর্স অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালিত হয়েছিল, যার আওতায় প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ফেসবুকে সেই সময়ের অসংখ্য পোস্ট এবং ইউনিসেফের ২০২১ সালের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেছেন যে টিকাদান সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) নিয়মিত অংশ হিসেবে সব সময় দেওয়া হচ্ছে। তারা উল্লেখ করেছেন যে নিয়মিত টিকাদানের পাশাপাশি কয়েক বছর পরপর ক্যাম্পেইন করা হয় যাতে কোনো শিশু বাদ না পড়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টিকাদান হার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডাটাবেজ থেকে জানা যায়, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর হাম টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে, যার হার কখনোই ৭০ শতাংশের নিচে নামেনি। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুসারে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টিকাদান হার ৮১ শতাংশের উপরে ছিল, তবে ২০২৫ সালে এটি ৫৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এই তথ্য অসম্পূর্ণ বলে দাবি করা হচ্ছে।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির উপপরিচালক মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ‘অনেক শিশু ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ নেওয়ার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে, তাই টিকাদানের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সর্বশেষ ২০২০ সালে ক্যাম্পেইন চালিয়েছে এবং এপ্রিলে নতুন ক্যাম্পেইন চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে গ্যাভির সহায়তায়।’

উপসংহার

সর্বোপরি, রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য থেকে স্পষ্ট যে গত আট বছরে হামের টিকা দেওয়া হয়নি বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি সঠিক নয়। ২০২০ সালে ব্যাপক হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনসহ নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত ছিল, যা শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভবিষ্যতে টিকাদান হার বাড়ানো এবং নতুন ক্যাম্পেইন চালুর মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।