হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশজুড়ে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে বাংলাদেশে দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় এক কোটি আশি লাখ শিশুকে বিনামূল্যে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইউনিসেফের প্রতিক্রিয়া ও সহযোগিতা
রানা ফ্লাওয়ার্স তার বিবৃতিতে বলেন, "বাংলাদেশে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শুরু হচ্ছে। হামে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার পর, এখন দেশজুড়ে এই কর্মসূচি চালু হচ্ছে—যা শিশুদের জীবন রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষিত করা এবং হাম রোগ থেকে তাদের স্বস্তি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
ইউনিসেফ বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ফ্লাওয়ার্স। সংস্থাটি পরিকল্পনা প্রণয়ন, কমিউনিটিকে সংগঠিত ও মোবিলাইজ করা, টিকা সরবরাহ ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ এবং মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সহায়তা করছে। টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বৃহৎ পরিসরে এই জীবন রক্ষাকারী কর্মসূচি পরিচালনা সম্ভব করার ক্ষেত্রে গ্যাভি, দ্যা ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র এই টিকাদান প্রচেষ্টা জোরদার ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে মূল্যবান সহায়তা দিয়েছে।
টিকাদানের লক্ষ্য ও পদ্ধতি
ফ্লাওয়ার্স জানান, ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে বিনামূল্যে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে। আগে এই টিকা নিয়ে থাকলেও, এই বয়সী সব শিশুকে আবারও টিকা নিতে হবে, কারণ এই বয়সের শিশুরাই সংক্রমণ ও গুরুতর অসুস্থতার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। টিকা দেওয়া হবে মূলত বিদ্যমান সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কেন্দ্রগুলোতে।
কর্মজীবী বাবা-মায়েরাও যেন সহজে সন্তানদের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য শহরগুলোতে সন্ধ্যায়ও টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেসব জায়গায় মানুষের সমাগম বেশি সেসব জায়গা এবং যেসব এলাকায় শিশুদের টিকাদানের হার কম সেসব এলাকায় আবারও টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। পাশাপাশি, টিকা প্রদানকারীরা ঘরে ঘরে গিয়ে এক ডোজও টিকা না পাওয়া অথবা টিকার আংশিক ডোজ পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করবেন।
অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ
৫ এপ্রিল জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে ভালো অগ্রগতি দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন ফ্লাওয়ার্স। ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ শিশু টিকা পেয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৭৩ শতাংশ। স্বাস্থ্যকর্মী ও কমিউনিটির নিরলস প্রচেষ্টাকে ইউনিসেফ সাধুবাদ জানালেও, তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক রয়ে গেছে।
এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



