ক্ষুধা ও রাগের সম্পর্ক: হ্যাংরি হওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ ও প্রতিকার
ক্ষুধা ও রাগের সম্পর্ক: হ্যাংরি হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

খুব ক্ষুধা পেয়েছে, আর হঠাৎই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। বাসার সবার ওপর রাগ ঝাড়তে শুরু করলে? এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। ইংরেজি ‘হাংরি’ (ক্ষুধার্ত) ও ‘অ্যাংরি’ (রাগান্বিত) শব্দ দুটির মিল থেকে তৈরি ‘হ্যাংরি’ (Hangry) শব্দটি দিয়ে ঠিক সময়ে খাবার না পেলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠার স্বভাবকে বোঝানো হয়।

ক্ষুধা ও রাগের শারীরবৃত্তীয় সম্পর্ক

প্রতিদিনের খাবার পেটে হজম হয়ে গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো ছোট উপাদানে পরিণত হয়। এই পুষ্টি উপাদান রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে কাজ করার শক্তি জোগায়। কিন্তু খাবার খাওয়ার পর কিছু সময় পার হলে রক্তে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ কমতে শুরু করে। বিশেষ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনেক বেশি কমে গেলে মস্তিষ্ক বিপদে পড়ে। শরীরের অন্যান্য অঙ্গ চর্বি বা প্রোটিন থেকে শক্তি নিতে পারলেও মস্তিষ্ক কেবল গ্লুকোজের ওপর নির্ভরশীল। রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে মস্তিষ্ক এটিকে জরুরি ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি হিসেবে ধরে নেয়।

গ্লুকোজ কাউন্টার-রেগুলেটরি রেসপন্স

গবেষকদের মতে, রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়া মেজাজ খিটখিটে হওয়ার একমাত্র কারণ নয়। এর পেছনে শরীরের একটি বিশেষ আত্মরক্ষাব্যবস্থা কাজ করে, যাকে বলা হয় ‘গ্লুকোজ কাউন্টার-রেগুলেটরি রেসপন্স’। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অতিরিক্ত মাত্রায় নেমে গেলে মস্তিষ্ক বিভিন্ন অঙ্গকে নির্দেশ দেয় এমন হরমোন তৈরি করতে যা দ্রুত গ্লুকোজের ঘাটতি পূরণ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রক্তে গ্লুকোজ বাড়াতে শরীর চারটি হরমোন তৈরি করে: গ্রোথ হরমোন, গ্লুকাগন, অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল। অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল হলো স্ট্রেস হরমোন, যা যেকোনো বিপদে বা খালি পেটে শরীরে নিঃসৃত হয়। অ্যাড্রেনালিন ‘লড়াই করো নয়তো পালাও’ পরিস্থিতি তৈরি করে, যা সামান্য বিষয়েও রাগ বাড়িয়ে দেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিউরোপেপটাইড ওয়াইয়ের ভূমিকা

মস্তিষ্কে নিউরোপেপটাইড ওয়াই নামের একটি রাসায়নিক উপাদান একসঙ্গে ক্ষুধা ও রাগ নিয়ন্ত্রণ করে। যাদের মস্তিষ্কে এটি বেশি থাকে, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি রাগী স্বভাবের হন।

প্রতিকার ও সতর্কতা

ক্ষুধার কারণে মেজাজ খারাপ হওয়া রোধের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগার আগে বাদাম, ফল বা ওটসের মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। চিপস বা চকলেটের মতো জাঙ্ক ফুড রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে আবার দ্রুত কমিয়ে দেয়, যা মেজাজ আরও খিটখিটে করে তোলে।

তবে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলেও ভয়ের কিছু নেই। কিছু সময় পর শরীরের নিজস্ব ব্যবস্থা সচল হয়ে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক করে আনে। তাই যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বা ঝামেলার কাজ খালি পেটে না করে ভরপেট খাওয়ার পর করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: দ্য কনভার্সেশন