গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর মিরপুরে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে, বাসা-বাড়ি, বস্তি ও দোকানপাটেও পানি ঢুকেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী ও অফিসগামী মানুষ।
মিরপুরের কোন এলাকায় জলাবদ্ধতা?
সরেজমিনে মিরপুর-১, ২, ১০, ১৩ নম্বর বিআরটিএ, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, আনসার ক্যাম্প, কালশী, সাংবাদিক আবাসিক এলাকা, মিরপুর-২ নম্বর হাজী রোড, প্যারিস রোড, মিরপুর-১২ নম্বর বি ব্লক, বাইশটেকি, মিরপুর-১১ এভিনিউ ফাইভ এলাকায় জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা গেছে।
পানির উচ্চতা ও যানবাহন বিকল
মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমেছে। কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও মিরপুর ১৩ নম্বর বিআরটিএসহ আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি যানবাহনে পানি ঢুকে রাস্তার ওপর বিকল হয়ে পড়ে। সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক খলিল জানান, সকালে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ৩ জন যাত্রী নিয়ে কালশী পৌঁছালে পানি ঢুকে অটোরিকশা বন্ধ হয়ে যায়। পরে যাত্রীরা যে যার মতো চলে গেলে তিনি অটোরিকশা ঠেলে গ্যারেজে রেখে বাসায় চলে আসেন।
যাত্রীদের অভিযোগ: বাড়তি ভাড়া
সকাল থেকে মিরপুর ১০ নম্বরগামী গণপরিবহণ কম থাকার সুযোগে রিকশা ও সিএনজিচালক ভাড়া বেশি দাবি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। স্থানীয়রা জানান, মিরপুর ১০ নম্বরে মেট্রোস্টেশনসহ বিভিন্ন মার্কেট থাকায় জনসমাগম বেশি। তারা দ্রুত পানি অপসারণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে (ডিএনসিসি) বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ জানান।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য
মিরপুর ১ নম্বর আনসার ক্যাম্পের বাসিন্দা ও বৈশাখি মার্কেটের ব্যবসায়ী বাবু বলেন, মহল্লার গলির সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। বাসা থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দোকানে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।
ডিএনসিসি’র অবস্থান
ডিএনসিসি অঞ্চল-৪ এর সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, যতদিন পর্যন্ত খাল দখলমুক্ত ও পানি প্রবাহ ঠিক না হবে ততদিন মিরপুরে জলাবদ্ধতা থাকবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে তার অঞ্চলে ১৫০ জন লোক কাজ করছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে।



