পাঁচ দিন পর কক্সবাজারে রেল চলাচল শুরু
বন্যার কারণে দীর্ঘ পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ আবার চালু হয়েছে। আজ বেলা দেড়টার পর চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ঢাকা থেকে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস।
রেলওয়ের বিবৃতি
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস রোববার বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছায়। এরপর বেলা সোয়া ২টার দিকে ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি ষোলশহর সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসের পাড়া অংশ অতিক্রম করে, যা গত কয়েক দিন পানিতে তলিয়ে ছিল।
চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল থেকে চট্টগ্রামে আবারও ভারী বর্ষণ হচ্ছে। এর মধ্যেই ট্রেন চলাচলের প্রস্তুতি নেয় রেলওয়ে। ট্রেন চালুর আগে দুপুরে নগরের ষোলশহর রেলস্টেশন পরিদর্শন করেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন। এ সময় তার সঙ্গে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মহাব্যবস্থাপকের বক্তব্য
মো. সুবক্তগীন সাংবাদিকদের বলেন, “চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের পরও গত মঙ্গলবার রেললাইনে পানি উঠেছে। এরপর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ ব্যাপারে তদারকি করা হয়।”
প্রবাল এক্সপ্রেসের অবস্থা
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল জোনের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফারহান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে আজ বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা থেকে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এর আগে জানালিহাট রেলস্টেশনে আটকে থাকা চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটের প্রবাল এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে আনা হয়। রেললাইন এখন চলাচলের জন্য নিরাপদ।
স্টেশন মাস্টারদের তথ্য
ষোলশহর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মাইন উদ্দিন মামুন জানান, গত মঙ্গলবার থেকে জান আলী হাট স্টেশনে আটকে থাকা চট্টগ্রামগামী ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ অতিক্রম করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয় এবং পরে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়। অন্যদিকে জান আলী হাট স্টেশনের স্টেশন মাস্টার নেজাম উদ্দিন বলেন, সকালেই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ দুপুর ২টার দিকে একই অংশ সফলভাবে অতিক্রম করে কক্সবাজারের পথে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
বন্যার ক্ষতি ও পুনর্বাসন
টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস মাঝপথে আটকে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
প্রকৌশলীদের প্রতিবেদন
রেলওয়ের প্রকৌশলীরা জানান, বন্যার তীব্র স্রোতে রেললাইনের নিচের পাথর সরে গিয়েছিল। তবে রেললাইন বাঁকা বা বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পাথর পুনর্বিন্যাস এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি উঁচু করার কাজ শেষ করার পর আজ থেকে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে।



