ফরিদপুরে জীবিত সদস্যকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ
জীবিত সদস্যকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা বাদ দেওয়ার অভিযোগ

ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির জীবিত আজীবন সদস্যকে ‘মৃত’ দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে সাদেকুজ্জামান মিলন পাল নামের এক ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগ দাখিল

বুধবার (৮ জুলাই) ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে ‘আজীবন সদস্যকে মৃত দেখিয়ে সদস্য পদ বাতিল প্রসঙ্গে’ শিরোনামে একটি অভিযোগ দেন মিলন পাল। ওই অভিযোগে মিলন পাল বলেন, প্রতিষ্ঠানের এক নম্বর রেজিস্টার অনুযায়ী ৬৮ নম্বর আজীবন সদস্য ছিলাম; কিন্তু রেজিস্টারে মৃত দেখিয়ে সদস্য পদ বাতিল করা হয়। যারা ‘মৃত’ দেখিয়ে সদস্য পদ বাতিল করেছেন- সেই বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে আমাকে ৬৮ নম্বর সিরিয়াল পুনঃবহাল করবেন।

ভুক্তভোগীর পরিচয়

সাদেকুজ্জামান মিলন পাল ১৯৫৭ সালের ১ জুলাই ফরিদপুর সদরের ডিক্রির চর ইউনিয়নের পালডাঙ্গী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৫ সালে পদ্মা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে তিনি বর্তমানে শহরের হাবেলী গোপালপুর মহল্লায় বসবাস করছেন। তিনি ১৯৮৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ফরিদপুর সদরের ডিক্রির চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া ২৫ বছর ফরিদপুর জেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সমিতির ইতিহাস

সূত্র জানায়, ১৯৮৩ সালে ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র ঝিলটুলী মহল্লায় ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতি স্থাপিত হয়। কালের বিবর্তনে ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে প্রথমে ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও পরে ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। হাসপাতালটি বর্তমানে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট। মেডিকেল কলেজটিতে প্রতি বছর ৯০ জন করে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে ১৭তম ব্যাচ ভর্তি হয়েছে।

১৯৮৪ সালে ১২ জন আজীবন সদস্য নিয়ে এ সমিতি যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে সমিতির আজীবন সদস্য প্রায় চার হাজার। ওই সমিতির ৬৮ নম্বর আজীবন সদস্য সাদেকুজ্জামান ১৯৯১ সালে সমিতির সঙ্গে যুক্ত হন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুক্তভোগীর বক্তব্য

ভুক্তভোগী সাদেকুজ্জামান মিলন পাল বলেন, আমার স্ত্রী তাছরিন জামান রুপা ২০২৫ সালে নতুন আজীবন সদস্য হয়েছেন। ৪ জুলাই নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীরা সবাই আমার স্ত্রীর কাছে ফোন দিয়ে ভোট চান; কিন্তু আমার কাছে কেউ ভোট চাননি। তখন আমি খোঁজ নিয়ে দেখি ভোটার তালিকায় আমার নাম নেই। সেখানে আমাকে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছি। তারা নতুন কমিটি হলে আমাকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির কথা জানিয়েছেন।

মুসলিম হয়েও নামের শেষে পাল পদবি ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার পূর্ব-পুরুষরা ‘পাল’ পদবি ব্যবহার করতেন। সেখান থেকে আমিও ব্যবহার করছি।

সমিতির ব্যাখ্যা

এ বিষয়ে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মজিবর রহমান বলেন, ‘ভুলবশত’ জীবিত সদস্যকে ‘মৃত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ ভুলের জন্য দুঃখিত। ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। এ মামলা চলাকালে ভোটার তালিকা সংশোধনের উপায় নেই। মামলাটি নিষ্পত্তি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।