স্বাস্থ্যখাতের ভাঙা কাঠামো পুনর্গঠনই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ: প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত
স্বাস্থ্যখাত পুনর্গঠন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ: প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্যখাতের ভাঙা কাঠামো পুনর্গঠনই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ: প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত

দেশের স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ফলে ভেঙে পড়া কাঠামো পুনর্গঠন করাই বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে 'কমপ্রিহেনসিভ আই কেয়ার সার্ভিসেস' (CECS) প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংস্কারের অঙ্গীকার

প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত উল্লেখ করেন, বিগত বছরগুলোতে স্বাস্থ্যখাতে নজিরবিহীন দুর্নীতি হয়েছে, যা সিস্টেমকে ভঙ্গুর করে তুলেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ভঙ্গুর সিস্টেমকে সংস্কার করে জনবান্ধব করা বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতে বাজেট পাঁচগুণ বাড়ানোর একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

তবে প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন, অনেক ক্ষেত্রে সক্ষমতার অভাবে বরাদ্দকৃত অর্থ পুরোপুরি ব্যয় করা সম্ভব হয় না, যা উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এই সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার দ্রুত কাজ করছে এবং প্রক্রিয়াগুলোকে আরও কার্যকর করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চোখের চিকিৎসা ও প্রতিবন্ধী শিশুদের পুনর্বাসনে জোর

নিজের দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. মুহিত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, অন্ধত্ব প্রতিরোধে তিনি আজীবন কাজ করেছেন এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এই ধরনের মহতী উদ্যোগে শামিল হওয়া তাঁর জন্য পুরনো আঙিনায় নতুন এক অভিজ্ঞতা। সাভার এলাকার পোশাক শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চোখের চিকিৎসায় সাইটসেভারস এবং গিলডান অ্যাকটিভওয়্যার যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের চোখের স্ক্রিনিং, ছানি অপারেশনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হবে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী শুধুমাত্র চোখের চিকিৎসা নয়, বরং প্রতিবন্ধী শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে থেরাপির মাধ্যমে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব

মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণের অঙ্গীকার

দৃষ্টি সুরক্ষা ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্র এই অধিকার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন। সাইটসেভারসের দীর্ঘ ২৫ বছরের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে তিনি সমাজের অন্যান্য শিল্প উদ্যোক্তাদেরও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অপথ্যালমোলজি অ্যান্ড হসপিটালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এস এম এম কাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগটি স্বাস্থ্যখাতের সংস্কারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।