কম বয়সে কসমেটিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞের
কম বয়সে কসমেটিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ

ত্বক ও চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়াকে বিশ্বের অন্যতম অগ্রগামী দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উচ্চমানের পণ্য থেকে শুরু করে বিলাসবহুল ট্রিটমেন্ট—সবকিছুতেই দেশটি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছে। তাই সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসা ও কসমেটিক প্রক্রিয়ার জন্য প্রতি বছর লাখো পর্যটক দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ভিড় করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ইনফ্লুয়েন্সারই ত্বক ও চুলের চিকিৎসা নিতে কিংবা প্রসাধনী কেনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। বিশেষ করে এমন ফাউন্ডেশন মেকআপের কথা তারা উল্লেখ করেন, যা ত্বকের সঙ্গে এতটাই স্বাভাবিকভাবে মিশে যায় যে সেটি ত্বকেরই আরেকটি স্তর বলে মনে হয়।

এসব এখন আর নতুন কিছু নয়। গত কয়েক বছরে সিউলে পর্যটকদের আকর্ষণের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে মুখের ত্বক টানটান করার বিভিন্ন প্রক্রিয়া (ফেসিয়াল ফার্মিং) এবং লেজার ট্রিটমেন্ট। তবে এ বিষয়েই সতর্কবার্তা দিয়েছেন কোরিয়ান ইনফ্লুয়েন্সার লি সাং-মি (হ্যালো_ইউল্লি)।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোরিয়ান ইনফ্লুয়েন্সার লি সাং-মি সতর্ক করে বলেছেন, কম বয়সে এসব কসমেটিক প্রক্রিয়া করানো উচিত নয়। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ৪১ বছর বয়সী এই ইনফ্লুয়েন্সার তার ত্রিশের দশকে করা পাঁচটি ভুলের কথা তুলে ধরে অন্যদের তা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

কসমেটিক প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়া নয়

লি সাং-মি লিখেছেন, “কসমেটিক প্রক্রিয়া করাতে তাড়াহুড়া করবেন না। জীবনের পরবর্তী সময়ে যখন সত্যিই এসবের প্রয়োজন হবে, তখন এগুলো আর আগের মতো কার্যকর থাকে না।” তার মতো অনেক বিশেষজ্ঞও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সমাজের তৈরি করা সৌন্দর্যচাপের কারণে কম বয়সে এসব চিকিৎসা বা সৌন্দর্যবর্ধক প্রক্রিয়া না করানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এ সতর্কবার্তাটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ফেসলিফট, বোটক্স, লেজার থেরাপি এবং বার্ধক্য প্রতিরোধী বিভিন্ন চিকিৎসাসহ কসমেটিক প্রক্রিয়াগুলো দক্ষিণ কোরিয়ায় বিপুলসংখ্যক পর্যটক আকর্ষণের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অন্তত ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ সৌন্দর্যবর্ধক (অ্যাস্থেটিক) কারণে দক্ষিণ কোরিয়া ভ্রমণ করেছেন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে ২০ লাখের কিছু বেশি হয়েছে।

ইটি ব্র্যান্ড ইকুইটি’কে উদ্ধৃত করে কোরিয়া স্বাস্থ্য শিল্প উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের গ্লোবাল হেলথকেয়ার বিজনেস বিভাগের পরিচালক হং সেউং-উক বলেছেন, “বিদেশি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার বিদেশি পর্যটকদের বৃদ্ধির হারকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি, বিদেশি পর্যটকরা কোরিয়ায় ভ্রমণের তুলনায় চিকিৎসা সেবায় বেশি অর্থ ব্যয় করছেন।” তিনিও কম বয়সে কসমেটিক সার্জারির বিপক্ষেই মত দিয়েছেন।

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান