মনোরম সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে ওঠা হাতিরঝিল কেবল বিনোদনকেন্দ্রই নয়, বরং এটি রাজধানীর প্রধানতম যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর একটি। প্রতিদিন লাখ লাখ নগরবাসী যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে এবং নির্মল পরিবেশ উপভোগ করতে এর চারপাশের নান্দনিক রাস্তা ও ওয়াকওয়ে ব্যবহার করেন। তবে বর্তমানে হাতিরঝিলের রাস্তাগুলো মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ঘটনা
দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে হাতিরঝিলের বিভিন্ন স্পিড ব্রেকারে দৃশ্যমান কোনও মার্কিং নেই, যা অনেক সময়ই চালকের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে ঘটছে মারাত্মক সব দুর্ঘটনা। সম্প্রতি এমনই একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ডিজিটালের চিফ রিপোর্টার রাশিদুল হাসান।
সাংবাদিক রাশিদুল হাসানের অবস্থা
গতকাল রবিবার দুপুরে হাতিরঝিল এলাকায় মোটরসাইকেল চালানোর সময় একটি স্পিড ব্রেকারের পাশে দুর্ঘটনার শিকার হন রাশিদুল। এতে তিনি ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
চালকদের অভিযোগ
স্থানীয় চালকদের অভিযোগ, হাতিরঝিলের অনেক স্পিড ব্রেকারে সাদা রঙ নেই। কোথাও আবার কোনও সতর্কতামূলক চিহ্নই নেই। ফলে রাতে কিংবা বৃষ্টির সময় এগুলো দেখা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি, দিনের বেলায়ও দূর থেকে বোঝা কঠিন হয়ে যায়।
সরেজমিনে যা দেখা গেছে
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, স্পিড ব্রেকার যে আছে দূর থেকে তা বোঝার উপায় নেই। এতে দ্রুতগতির যানবাহন হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
রাজউকের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যর্থ
এ বিষয়ে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী মোজাফফর উদ্দিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয়দের দাবি, ব্যস্ত এই সড়কে প্রতিদিন হাজারও যানবাহন চলাচল করে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত স্পিড ব্রেকারগুলোতে নতুন করে রং করা, প্রতিফলক বসানো এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা জরুরি।



