বুকে ব্যথা শুরু হলেই শুরু হয়ে যায় আতঙ্ক। হার্টের অসুখের কারণে, গ্যাসের কারণে নাকি কোনো উৎকণ্ঠার জেরে ব্যথা হচ্ছে? অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গগুলো হুবহু প্রায় একই রকমের মনে হতে পারে। এ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আর সেখান থেকেই দ্বন্দ্বে পড়েন অনেকেই। দুই ধরনের ব্যথার কিছু পার্থক্য থাকলেও অনেক সময়ে লক্ষণ এতই মিলে যায় যে, উপেক্ষা করলে বিপজ্জনকও হতে পারে।
গ্যাসজনিত বুকে ব্যথার লক্ষণ
সাধারণত বুকে চিনচিনে ব্যথা হয় গ্যাসের কারণে। বুকে জ্বালার মতো লক্ষণও দেখা দেয় গ্যাসের কারণে। কখনো কখনো ব্যথা পিঠের দিকেও যেতে পারে। গ্যাসজনিত অস্বস্তি সাধারণত পেটের দিক থেকে শুরু হয়ে বুক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময়ে ঢেকুর উঠলে বা গ্যাস বেরোলে এ ব্যথা কিছুটা কমে যায়।
আপনি কোনো কিছু খাওয়ার পর এ ব্যথা বেশি হয়, বিশেষ করে তেলমসলাযুক্ত খাবার কিংবা ভারি কোনো খাবার খেলে এমনটি হয়। এর সঙ্গে পেটফাঁপা, অম্বল, গলায় জ্বালাভাবের মতো উপসর্গও থাকতে পারে। শরীর নাড়াচড়া করলে এ ব্যথার তীব্রতা কমবেশি হতে পারে।
হার্টজনিত বুকে ব্যথার লক্ষণ
আবার হার্টসংক্রান্ত সমস্যা হলে বুকে চাপ ব্যথা অনুভূত হয়। এ ব্যথা বাঁ হাতের দিকে নামতে পারে— চোয়াল, পিঠ ও ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। সহজে এ ব্যথা কমেও না। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত ঘাম, শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব এবং মাথা ঘুরতে পারে বা হঠাৎ দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হাঁটাচলা বা সিঁড়ি ভাঙার সময়ে ব্যথা বেড়ে যায় এবং বিশ্রাম নিলে কিছুটা কমে যায়। এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে আবার ব্যথা এক রকম হয় না। ব্যথা কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে বা বার বার ফিরে এলে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক সময়ে প্রথমে হালকা অস্বস্তি মনে হলেও সেটিই বড় সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে। সবসময়ে শুধু লক্ষণ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় না। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপানের অভ্যাস বা পারিবারিক ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। তাই সন্দেহ হলে দেরি না করে, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।



