রাউজানে আবারও গুলি, বিএনপি কর্মী নিহত
রাউজানে আবারও গুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

চট্টগ্রামের রাউজানে দুই মাসের ব্যবধানে আবারও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির এক কর্মী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল রাউজান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিচয়

নিহত বিএনপির কর্মীর নাম কাউসারুজ্জামান (৩৬)। তিনি ওই এলাকার আবুল কালামের ছেলে। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পেশায় কৃষক কাউসারুজ্জামানের স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে।

হামলার বিবরণ

পরিবারের সদস্যদের দাবি, কাউসারুজ্জামান গত দুই বছরে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা রাখার কারণে তার ওপর এসব হামলা হয়। গতকাল রাতে তিনি নানাবাড়িতে দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সাত থেকে আট জন অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় তিনি পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর শনিবার ভোরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের প্রতিক্রিয়া

নিহত কাউসারুজ্জামানের বাবা আবুল কালাম বলেন, ‘আমার ছেলে বিএনপির সমর্থক ছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতো। এর আগেও কয়েকবার তার ওপর হামলা হয়েছে। এবার গুলি করে মেরে ফেলল। আমরা এর বিচার চাই।’

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাবের সুলতান বলেন, ‘নিহত কাউসারুজ্জামান বিএনপির সমর্থক ছিল। তার বড় ভাই যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত। আমরা তার হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

পুলিশের বক্তব্য

রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী ভূমিকার কারণে কাউসারুজ্জামানকে হত্যা করা হয়েছে। তার পিঠের বাঁ পাশে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্বের ঘটনা

রাউজানে গুলি করে হত্যার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে আবদুল মজিদ (৫০) নামের এক যুবদল কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে ৫ জানুয়ারি একই ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে যুবদল নেতা মুহাম্মদ জানে আলমকে (৪৮) মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই দুই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

সামগ্রিক পরিস্থিতি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে রাজনৈতিক হানাহানি ও বিভিন্ন বিরোধে ২২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ১৬টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধ থেকে। এ সময়ের মধ্যে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ।