নোয়াখালীতে একাদশ শ্রেণির শিশুর আত্মহত্যা, কর্মস্থলে যাওয়ার সময় একা রেখে গিয়েছিলেন বাবা-মা
নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ধর্মপুর গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ১১ বছরের এক শিশুর লাশ আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির নাম জান্নাত বেগম, যিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তেন।
ঘটনার বিবরণ
জান্নাত বেগমের বাবা মো. বেলাল হোসেন এবং মা ঝর্ণা বেগম দুজনই চাকরিজীবী। গতকাল সকালে তারা কর্মস্থলে যাওয়ার সময় তাদের ১৪ বছর বয়সী ছেলে একটি হিফজ মাদ্রাসায় ছিল। ফলে ঘরে একা রেখে যান মেয়ে জান্নাত বেগমকে। সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে ফিরে মা ঝর্ণা বেগম দেখতে পান, মেয়ে ঘরে নেই। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তিনি ঘরের পাশের একটি আমগাছের সঙ্গে গলায় পাটের দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মেয়ের লাশ দেখতে পান।
লাশ দেখার পর মায়ের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। তারা দ্রুত স্থানীয় সুধারাম থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং থানায় নিয়ে যায়। আজ সোমবার সকালে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও পরিবারের বক্তব্য
সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হোসেন জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় শিশুর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা সন্দেহজনক কিছু দেখা যায়নি। পরিবারও মৃত্যুর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেনি। তিনি বলেন, "ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।"
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জান্নাত বেগমের পরিবার স্থানীয়ভাবে সম্মানিত। তার বাবা-মা নিয়মিত চাকরি করেন, এবং পরিবারটির আরেক সদস্য হিসেবে ১৪ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে, যে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। এই ঘটনায় গ্রামবাসী গভীর শোক ও হতবাক হয়ে পড়েছেন।
সম্প্রসারিত প্রেক্ষাপট
শিশু আত্মহত্যার মতো ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একাকিত্ব, পারিবারিক চাপ, এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যাগুলো এ ধরনের ট্র্যাজেডির পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারে। এই ঘটনা শিশুদের মানসিক সুস্থতা এবং পিতামাতার সচেতনতার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সামাজিক সংগঠনগুলো এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এবং সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে বলে তারা মত দিয়েছেন।



