হামের প্রকোপে শিশুদের নেবুলাইজার, টিকা সংকটে জাতীয় ক্যাম্পেইন বিলম্বিত
হামে আক্রান্ত শিশুদের নেবুলাইজার, টিকা সংকটে বিলম্ব

হামের প্রকোপে শিশুদের নেবুলাইজার, টিকা সংকটে জাতীয় ক্যাম্পেইন বিলম্বিত

হামের তীব্র প্রকোপে আক্রান্ত শিশুদের কাউকে কাউকে নেবুলাইজার দিতে হচ্ছে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ৬টি শিশু ভর্তি করা হয়েছে, যা মোট ভর্তি শিশুর সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫-এ নিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাবের উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।

টিকা কেনায় গাফিলতি ও বিলম্ব

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত টিকা কেনায় বিলম্ব ঘটিয়েছে। সম্প্রতি হাম-রুবেলার টিকা পেয়েছে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), কিন্তু সিরিঞ্জের অভাবে জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু করতে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ইপিআই কর্মকর্তারা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং দাতা সংস্থাগুলো টিকা কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে সময় ব্যয় করেছে, যার ফলে টিকার মজুত ফুরিয়েছে এবং জাতীয় ক্যাম্পেইন পিছিয়ে গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এটিকে গাফিলতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ জেলায় হাম বেশি ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যে সাত শতাধিক মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং পঞ্চাশের বেশি মৃত্যু ঘটেছে। হামের পাশাপাশি অন্তত ২১ জন রুবেলায় আক্রান্ত হয়েছে বলে ইপিআই কার্যালয় থেকে জানা গেছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন বলেন, "জনস্বাস্থ্যবিদেরা ঝুঁকির কথা আগেই বলে আসছিলেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কথা কানে নেয়নি এবং গাফিলতি দেখিয়েছে।" বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, একজন রোগী ১৬ থেকে ১৮ জনের মধ্যে হাম ছড়াতে পারে, তাই দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টিকা বিতরণ পদ্ধতি ও বর্তমান সংকট

দেশে হামের টিকা সাধারণত দুইভাবে দেওয়া হয়:

  • নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হয়।
  • কয়েক বছর পরপর জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হয়, সর্বশেষ ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে।

বর্তমানে টিকা আছে কিন্তু সিরিঞ্জের অভাবে ক্যাম্পেইন বিলম্বিত হচ্ছে। ইপিআইয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, গ্যাভির আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় সিরিঞ্জ কেনা সম্ভব হয়নি, তবে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

সেক্টর প্রোগ্রাম বাতিলের প্রভাব

অন্তর্বর্তী সরকার সেক্টর প্রোগ্রাম বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা টিকা কেনার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে। মন্ত্রণালয় ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, ফলে কয়েক মাস সময় নষ্ট হয়। এক কর্মকর্তার মতে, "এ ধরনের জটিলতা অনেক দিন ধরে চলেছে, যা টিকা সংকটকে ত্বরান্বিত করেছে।"

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সতর্কতা

টিকাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা গ্রুপের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জুনের মধ্যে জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে। ৫৮ জেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী এবং ৬টি জেলায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উপর জোর দিচ্ছেন, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

মুশতাক হোসেন আরও যোগ করেন, "আক্রান্তদের সঠিক চিকিৎসা, দ্রুত টিকা বিতরণ এবং কনটাক্ট ট্রেসিং জরুরি, নাহলে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে।" সরকারের ত্বরিত কর্মসূচি গ্রহণ না করলে হামের প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।