শিশুদের টীকা দেওয়ার পরেও হাম ছড়ানো: জরুরি গবেষণার আহ্বান
শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাকিবুল ইসলাম টীকা দেওয়ার কার্যক্রম সত্ত্বেও হাম ছড়ানোর ঘটনায় দ্রুত কারণ অনুসন্ধানের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি নিজে ২০১১ সালের পর হাম নিয়ে গবেষণা কাজে অংশ নিয়েছিলেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
হাম ছড়ানোর পেছনে সম্ভাব্য কারণসমূহ
রাকিবুল ইসলামের মতে, টীকা দেওয়ার পরেও হাম ছড়ানো যখন ঘটছে, তখন কয়েকটি বিষয়ে জরুরিভাবে নজর দেওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, "এই সমস্যাগুলো স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে, কিন্তু সেগুলো চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" হাম কেন হয় এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "হাম একটি ভাইরাসজনিত অসুখ, এবং এটি হুট করে বেড়ে যাওয়া চিন্তার বিষয় হলেও ভয়ের নয়। উন্নত দেশেও হঠাৎ করে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে, শুধু আমাদের দেশেই নয়।"
তিনি ২০১২-১৩ সালের দিকে কেরানীগঞ্জ থেকে প্রচুর হাম রোগীর খবর আসার উদাহরণ টেনে বলেন, সেসময় একটি গবেষণা পরিচালিত হয়েছিল। সম্ভাব্য কারণ হিসেবে তিনি জীবাণুর মিউটেশন, টীকার কার্যকারিতার মাত্রা, এবং টীকা সংরক্ষণের প্রক্রিয়া ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। "ধরুন, আপনি নিয়মিত টীকার ব্যবস্থা করছেন, কিন্তু শিশুর হাম প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে কিনা তা গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে," তিনি যোগ করেন।
হামের মারাত্মকতা ও বর্তমান করণীয়
আগের সময়ে হাম এত মারাত্মক আকার ধারণ করতো না— এমন ধারণা জনমনে থাকলেও রাকিবুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, "হাম বরাবরই মারাত্মক একটি রোগ। এর কারণে নিউমোনিয়া হয়ে গেলে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।" বর্তমান মুহূর্তে করণীয় সম্পর্কে তিনি পরামর্শ দেন, যাদের হাম হয়ে গেছে তাদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া এবং যাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার বয়স হয়েছে তাদের দ্রুত টীকা দেওয়া।
তিনি শিশুদের টীকা দেওয়ার সময়সূচি স্মরণ করিয়ে দেন:
- শিশুর বয়স ৯ মাস থেকে ১০ মাস হলে হামের প্রথম টীকা দিতে হবে।
- ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টীকা দেওয়া আবশ্যক।
রাকিবুল ইসলামের এই আহ্বান শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গবেষণা ও নজরদারির গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে, যা ভবিষ্যতে হামের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।



