অটিজমে আক্রান্তদের পূর্ণ মর্যাদায় বাঁচার অধিকার: প্রধানমন্ত্রী
অটিজমে আক্রান্তদের পূর্ণ মর্যাদায় বাঁচার অধিকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিটি নাগরিকের মতো অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও পূর্ণ মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় আনার গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসার বিকল্প নেই। এ প্রেক্ষাপটে দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, প্রতিটি জীবন মূল্যবান’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে অটিজম সচেতনতা পালন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও গুরুত্ব সহকারে পালন হচ্ছে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬’। সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালনের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। দিবস উদযাপনের আগে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু, ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, থেরাপিস্ট, সহায়ক উপকরণ উদ্ভাবকসহ অটিজম বিষয়ে কর্মরত ব্যক্তি, সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনসমূহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের প্রতিশ্রুতি ও পদক্ষেপ

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক শিশু/ব্যক্তি অটিজম ও স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যার শিকার। একটি বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক জনগণকেন্দ্রিক মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রতিবন্ধী বিষয়ক আইনগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি মর্যাদাপূর্ণ, সহায়ক ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্নদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ

তারেক রহমান বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি মানুষ তার সীমাবদ্ধতা জয় করে নিজের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, সামাজিক সক্ষমতা এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মানোন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন যারা খেলাধুলায় আগ্রহী, তাদের জন্য ইতোমধ্যেই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আরও বেশি সংখ্যক ব্যক্তি যাতে প্যারা-অলিম্পিকে অংশ নিতে পারে, সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সবার জন্য সমান সুযোগ ও মর্যাদা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রয়াস, আন্তরিক সদিচ্ছা এবং মানবিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে সকল মানুষ, তাদের বৈশিষ্ট্য ও পরিচয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও, সমান সুযোগ, সম্মান এবং মর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী ‘১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষ্যে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি, তাদের পিতা-মাতা, স্বজন এবং পরিচর্যাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভ কামনা জানান এবং দিবস উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করেন।